নদীর দুই পাড় দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে

নাগরিক বার্তা ডেস্ক: নদী সবাই ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু কাউকে নদী দখল করতে দেওয়া হবে না। কোনো দখলদার ছাড় পাবে না। নৌপরিবহন সেবাকে আরও যুগোপযোগী করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি করা হবে। নদীর দুই পাড় দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংসদ ভবনে নিজ অফিসে একান্ত সাক্ষাৎকারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে নৌপরিবহনের নানা উন্নয়ন, নদীকে দখলমুক্ত করা, বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্দরগুলো চালুর উদ্যোগসহ নানা বিষয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে।

দখলদারের হাত থেকে বুড়িগঙ্গার দুই পাশে উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় প্রায় তিন কোটি লোকের বসবাস। এখানে দম ফেলার অবস্থা নেই। বর্তমান সরকার সেটা বুঝতে পেরেই বুড়িগঙ্গাকে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পৃথিবীর খুব কম শহরই পাবেন যার চারপাশ নদী ঘিরে রেখেছে। ঢাকার ক্ষেত্রে কিন্তু সে অবস্থা আছে। সে কারণেই বর্তমান সরকার নদী রক্ষা করে, নদীর নাব্য রক্ষা করে নগরবাসীর জন্য একটি সুন্দর বাসযোগ্য শহর উপহার দেওয়ার অভিপ্রায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

এ কাজগুলো করতে এই নদী ও নদীর তীর রক্ষায় যে যে মন্ত্রণালয় যুক্ত আছে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। ইতিমধ্যে আমাদের করণীয় বিষয়ে সমন্বয় হয়ে গেছে। এখন বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছি। কে কীভাবে কাজ করবে সে বিষয়ে পরিকল্পনা হয়ে গেছে। নদী ও নদীতীর রক্ষায় টাস্কফোর্স আছে। এই টাস্কফোর্সের সঙ্গে সম্পৃক্তরা সজাগ রয়েছেন।

আমাদের একটা নদী রক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে। তারা নদীগুলো সার্ভে করছে। নদীগুলো কী পরিমাণ দখল হয়েছে, কী পরিমাণ দূষণ হয়েছে, কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মানুষের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বা হবে এ বিষয়ে তারা একটা সুপারিশ করছে। আমরা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এটি আমাদের ধারাবাহিক কার্যক্রম। উচ্ছেদের পর আবার যেন দখল না হয় সে বিষয়ে বিস্তর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছি। ইতিমধ্যে দখলমুক্ত করে বুড়িগঙ্গার ২০ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ওয়াকওয়ে তৈরির কাজ শুরু করেছি, পর্যায়ক্রমে ওয়াকওয়ে, গার্ডেন ও ইকো পার্ক তৈরি করব।

কেউ দখল করতে পারবে না। সবাই ব্যবহার করতে পারবে। তিনি বলেন, দখলমুক্ত করার পর যারা দখলদার তারা তো চাইবেই দখল করতে কিন্তু আমাদের সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেগুলো রক্ষা করা। নৌপরিবহন সেবাকে জনবান্ধব করার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পণ্য পরিবহন ও যাত্রীসেবা দুটি আলাদা। নৌবন্দর চালু হলে আমাদের পণ্য পরিবহন ও যাত্রীবাহী নৌযান বেড়ে যাবে। তখন তাদের সেবাদানের জন্য আমাদের কী কী করণীয় তা করব। ইতিমধ্যে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের পাশে যে ফলের আড়ত আছে তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছি। পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিলের সামনের জায়গা নান্দনিক রাখার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছি।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রায় ২৪ হাজার নৌপথ ছিল। এ নদীগুলো নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। বলা হয়েছে, আমাদের প্রতিবেশী দেশ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু নদীর নাব্য রক্ষা না করা, নদীতীর দখল করার কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ নৌপথটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছিল। সে সময় ভারতের সহায়তায় কতগুলো ড্রেজারও এনেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর নদীমাতৃক বাংলাদেশ শুধু কাগজে-কলমে থাকে। বাস্তবে আর থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে নদীকে নিয়ে এক ধরনের ষড়যন্ত্র আছে। এটা শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ষড়যন্ত্রটা যারা করেছিল তারা জানত নদী নষ্ট করে দিলেই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।

তা.আ/