নতুন রাজনৈতিক সংষ্কৃতি, ‘লীগ ভার্সেস লীগ’

বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের রাজনীতির একটি কঠিন বাস্তবতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নাই। তাকে স্বৈরাচারী বলা হোক বা একমুখী বলা হোক। তিনি না থাকলে দেশ যে কতটা পিছিয়ে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো এমন কোনও নেতা নাই যিনি বা যারা শেখ হাসিনার পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হতে পারেন।

ক্রমাগত নিজেকে এক ও অদ্বিতীয় করে তুলেছেন শেখ হাসিনা। আজ তিনি শুধু দেশেই নয় একজন আন্তজাার্তিক নেতা। এ সময় আমাদের দেখা সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক। শুধু তাই না স্বাধীনতা বিরোধীদের রুখে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বুকের সাহসকে সম্বল করে জনগণকে সাথে নিয়ে শেখ হাসিনা যে কাজ করে দেখালেন তা ইতিহাসে চিরকাল লেখা থাকবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি , জঙ্গিবাদ দমন। দেশের ব্যাপক উন্নয়ন। আর উন্নত দেশ গুলোর লেজুড়বৃত্তি না করে একা এগিয়ে যাওয়ার সাহস বঙ্গবন্ধু কন্যা ছাড়া আর কার আছে? আর তাই সর্বান্তকরনে  যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তারা যে যেই পেশাতেই কর্মরত থাকুক না কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল কে সব অবস্থায় সমর্থন দিয়েছে, দলের জন্য কাজ করেছে। এমনকি এ দেশের সুশীল সমাজ যখন এ নির্বাচনের বিরোধিতা করেছেন বা বিরোধীদল বি এনপি জামায়াতের সাথে তাল মিলিয়ে বলেছে বিতর্কিত নির্বাচন তখনও তারা দলের হয়ে কাজ করেছেন। আর সেই সঙ্গে মোহমুক্তভাবে কাজ করেছে গ্রাম অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা ।

কিন্তু আলোর নিচে অন্ধকার থাকে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে জয়লাভ করে তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করলেন । আর সেই সঙ্গে তার দলের যারা তৃণমূল পর্যায়ের নেতা বা কর্মী তাদের জীবনে নেমে এল যন্ত্রনা , আর হয়রানি । সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে নেত্রীর মনোনীত প্রার্থাীর জন্য তারা কাজ করেছে। অর্থ খরচ করেছে । কারন শেখ হাসিনা এবং নৌকা তাদের জীবনের শেষ কথা।

নির্বাচনে জয়লাভ করেই নিজের দলের লোক কে হয়রানী করতে ব্যাস্ত নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা। নিজের স্বতীর্থের কাছে এমন অকৃতজ্ঞতার পরিচয় পেলে দুঃখের আর শেষ থাকেনা।

নির্বাচন পরবর্তী মফস্বল অঞ্চলের চিত্র। আওয়ামীলীগ নিজেরাই নিজেদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করছে। এখন আর বিরোধীদল নেই । তাই যেন শুরু হল নতুন এক রাজনৈতিক সংষ্কৃতি ‘‘লীগ ভার্সেস লীগ’’।

দলের নবনির্বাচিত মন্ত্রী বা এমপি তার সতীর্থদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তাদের অপরাধ তারা কেন নমিনেশন পেপার কিনতে গিয়েছিল। অথবা তাদের কেন জনপ্রিয়তা আছে? একজন আজীবন ত্যাগী নেতার বিরুদ্ধে লাগছেন নব্য কোন পজিশন পাওয়া নেতা। হয়ত ওই নতুন নেতা যিনি মন্ত্রী বা এমপি হয়েছেন তিনি এখন ধরা কে সরা জ্ঞান করছেন। তাদের উদ্ধেশ্যে বলতে চাই আপনারা কি মনে করছেন যারা নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে টাকা পয়সা দিয়ে , প্রচারনা করে আপনাদের জন্য কাজ করেছে তাদের কে কোনদিন আর আপনাদের প্রয়োজন পড়বে না ?  মনে রাখবেন এক নির্বাচন সব নয় , আরো নির্বাচন আসবে । আর সকল ক্ষমতারই একদিন বিনাশ হবে। দলীয় বিবাদের যে সংষ্কৃতি আপনারা সৃষ্টি করেছেন তাতে আমাদের মনে একটিই আশঙ্কা আপনাদের এই পাপের ফল না জানি আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে কত  ‍যুগ বহন করতে হয়।