নতুন ভাবে শুরু করতে চান মোসাদ্দেক

অভিষেকের পর থেকেই জাতীয় দলের নিয়মিত একজন হয়ে ওঠেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। হঠাৎ চোখের সমস্যা সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। সঙ্গে যোগ হয় স্ত্রী করা মামলার বিতর্ক। সবকিছু মিলিয়ে গত মাস-খানেক খুব বাজে সময় কাটছিল তাঁর। নানা সমস্যার মাঝেও খেলেছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেট। প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরর্ম করতে পারেননি। দিনে দিনে কঠিন হয়ে ওঠে জাতীয় দলে ফেরা। বাস্তবতা কঠিন হয়ে ওঠলেও হাল ছাড়েননি। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নেমে আসা অন্ধকার সরিয়ে আলোর খোঁজে বেছে নেন ঢাকা লিগ। লিগের প্রথম পর্বে ব্যাট হাতে ৫৩.৫০ গড়ে ৪২৮ রান করেন, বল হাতেও নেন সাতটি উইকেট। এই সাফল্য তাঁকে খুলে দিয়েছে জাতীয় দলের দরজা। ডাক পেয়েছেন আসন্ন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দলে। দীর্ঘদিন পর এই ফেরাকে নতুনভাবে দেখছেন সৈকত।  নাগরিক বার্তার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন, এই ফেরায় নতুনভাবে শুরু করতে চান এই তরুণ অলরাউন্ডার।

নাগরিক বার্তা:  দীর্ঘদিন পর দেশের জার্সিতে এই ফেরা অনুভূতিকে কতটা নাড়া দিয়েছে?

মোসাদ্দেক:  এই ফেরা আমার কাছে বিশেষ কিছু। এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। এটা ঠিক অনেক দিন পর জাতীয় দলে সুযোগ পেলাম, আমি চাই সবকিছু নতুভাবে শুরু হোক। ‍যে মোসাদ্দেক হিসেবে প্রথম জাতীয় দলে ঢুকেছিলাম এবারও সেভাবেই ফিরতে চাই।

নাগরিক বার্তা:  সুযোগ পাওয়া নিয়ে কি নিজের মাঝে কোনো দ্বিধা ছিল?

মোসাদ্দেক: আসলে ঘুম থেকে ওঠার পর যখন শুনলাম তখন স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়েছি। আমারও একটা ধারণা ছিল হয়তো থাকতেও পারি নাও থাকতে পারি। খুব দ্বিধায় ছিলাম। এমন একটা অবস্থায় ছিলাম যে ৫০/৫০ ধরে রেখেছিলাম। তবে আত্মবিশ্বাস হারাইনি। বারবার মনে হয়েছে যে সুযোগ পাবো। যাক শেষ পর্যন্ত আশা পূরণ হয়েছে।

নাগরিক বার্তা: ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই স্মরণীয় জয়ে অবদান ছিল আপনার। আবারও ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন কতটা আত্মবিশ্বাসী?

মোসাদ্দেক: আসলে প্রতিটি টুর্নামেন্টকেই আমি ‍গুরুত্ব দেই। শুধু কার্ডিফ নয় পুরো ইংল্যান্ডেই আমার যে অভিজ্ঞতা আমি বলতে চাই ওই কন্ডিশনে আমার রোলটা কি সেটা আমি বুঝেছি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ছাড়া ইমাজিং কাপে খেলেছি। ইংল্যান্ডে খেলা সম্পর্কে একটা ধারণা হয়েছে। আমি চেষ্টা করবো আমার জায়গা থেকে ভালো কিছু করার। তবে আপাতত বাড়তি কোনো চিন্তা নেই।

নাগরিক বার্তা: সামনের টার্গেটটা কেমন?

মোসাদ্দেক: যদি ইন্টারন্যাশনালে ফর্ম খারাপ বলেন, আমার ক্যারিয়ারের দুই তিনটা ম্যাচে আমি খারাপ করেছি। আমার জায়গায় সেই সুযোগ গুলো পেয়েছি, টুকটাক কন্ট্রিবিউট করার চেষ্টা করেছি। ফর্ম আসলে সবসময় স্থায়ী থাকবে না। আসবে-যাবে এমন অবস্থা সবার জন্যই হবে। আমি চেষ্টা করেছি যেই প্লাটফর্মে পারফর্ম করার সেখানে করার চেষ্টা করেছি। যদি সামনে ভালো কিছু হয় তাহলে আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। আমিও চেষ্টা করে যাবো। সামনের টার্গেট আপাতত সেটাই।

নাগরিক বার্তা: বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে কোনো দলকে নিয়ে কি আলাদাভাবে ভাবছেন?

মোসাদ্দেক: বিশ্বকাপে প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছোটবেলা থেকেই এক্সাইটমেন্ট কাজ করে যে ভারতের বিপক্ষে খেলব। আমার কাছে ইন্ডিয়ার বিপক্ষে খেলা বেশি এক্সাইটমেন্ট মনে হয়।

নাগরিক বার্তা: ডিপিএলে মাশরাফির সঙ্গে একই দলে খেলছেন মোসাদ্দেক। অধিনায়কের কাছ থেকে বাড়তি কোনো বার্তা ছিলো?

মোসাদ্দেক: উনি (মাশরাফি) আমাকে এটাই বুঝালেন যে আমার দায়িত্বটা কেমন হবে। কখন আমার কি করা লাগতে পারে। আমার উপর যে দায়িত্ব থাকবে সেই দায়িত্বের উপর ফোকাস রাখতে বলেছেন। আমিও সেসব দিকগুলো নিয়ে ভাবছি। উনার কথাগুলোকে ফোকাসে রাখার চেষ্টা করছি। সেই অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

(নাবা/১৭ এপ্রিল/এইচএ)