ধনীদের বোকা বানাতে ওদের যত কৌশল…

রাজধানীর অভিজাত এলাকা কুড়িল বিশ্বরোড এবং উত্তরা এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় বিক্রি হতো সৌদি আরবের মুদ্রা রিয়াল। কম দামে রিয়াল পেয়ে অনেকেই তাদের তা কিনতো। পরে দেখা যেত রিয়ালের বান্ডিলে প্রথম ও শেষের নোট বাদে বাকিগুলো সব সাদা কাগজ। এই রিয়েল কোনো দোকান বা মার্কেটে বিক্রি হতো না। একটি চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চলাচল করা  দামি গাড়ি টার্গেট করে এ কাজ করে আসছিল।

রাস্তার জ্যামে দামি গাড়ির কাছে গিয়ে সৌদি রিয়েল দেখিয়ে না জানার ভান করে তারা জিজ্ঞেস করতো এটা কোন দেশি টাকা? আবার না বোঝার ভান করে কম দামে বিক্রি করে দিতো এই চক্রটি।

বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। আটককৃতরা হলো, চক্রের প্রধান আবু শেখ (৩৮) ও তার সহযোগী শাহিন মাতব্বর(৩৭) ও মহসিন মিয়া (৫৪), আবুল বাশার (৪০), কামরুল শেখ (৩৫), ইশারত মোল্লা (২৭) ও আব্দুর রহমান মোল্লা (৪০)।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান র‌্যাব -১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল সারোয়ার-বিন-কাশেম। তিনি জানান, ‘রাজধানীর গুলশান ও বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা দামি গাড়ি টার্গেট করে রিয়াল বিক্রি করতো একটি চক্র। কম দামে বিদেশি টাকা পেয়ে অনেকে তাদের ফাঁদে পা দিত। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা বান্ডিল ধরে রিয়াল কিনতো। বান্ডিল খুলে দেখার আগেই প্রতারক চক্র বলতো, পুলিশ আসছে ঝামেলা হবে। এই বলে টাকা নিয়ে সরে পড়ত। পরে দেখা যেত ওপরে ও নিচে কয়েকটা রিয়াল বাকিগুলো সাদা কাগজ।’

চক্রটি হজ্জ মৌসুমে হাজী ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায় এভাবে প্রতারণা করতো বলে জানান র‌্যারের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘হজ্জ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজীদের টার্গেট করে তারা এই সৌদি রিয়াল বিক্রি করত। অনেকে কম দামে রিয়াল পেয়ে যাচাই বাছাই না করে সেগুলো কিনতো। পরে প্রতারণার শিকার হতো।’ সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতো। বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লীরা খুশি হয়ে তাদের অনেক রিয়াল উপহার দিয়েছে কিংবা ইজতেমায় সৌদি রিয়াল কুড়িয়ে পেয়েছে এমন কথা বলত এবং জানতে চাইতো কীভাবে সেসব টাকা তারা ভাঙাবে। অনেকে তাদের কাছ থেকে কম দামে সেগুলো কিনতে আগ্রহ দেখাতো। এসময় চক্রটি তাদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় আসতে বলতো। রিয়াল বিক্রির আলাপের ফাঁকে তারা আসল টাকার মধ্যে সাদা কাগজ দিয়ে বান্ডিল তৈরি করে বিক্রি করতো। যা খুবই দক্ষতার সঙ্গে করতো। এভাবে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে তারা এই পেশার সঙ্গে জড়িত বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা। তিনি আরোও বলেন, যারা প্রতারিত হতো তাদের বেশির ভাগই বিষয়টি গোপন রাখতো। লোক লজ্জার ভয়ে কারো কাছে বলতো না। এমনকি আইন শৃঙ্খলা বাহীনির কাছেও তারা যেতেন না।

আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানায়, তাদের দলের নেতা মাহিন মাতব্বর এবং মহসিন মিয়া। তাদের সঙ্গে যোগসাজসে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তারা এ কাজ করতো। তাদের বেশির ভাগই রাজমিস্ত্রী, রং মিস্ত্রীসহ নানা ধরনের দিন মজুরের কাজ করতো।

আটকের সময়ে তাদের কাছ থেকে নগদ দেড় হাজার সৌদি রিয়েল, ৩ হাজার ৮শ ২২ টাকা এবং বিভিন্ন মডেলের ১০ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

নাবা/রাজু/নয়ন