দুই থেকে ৬৪ মাস পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন না পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

নিউজ ডেস্ক: দেশের ৮০ ভাগ পৌরসভায় পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মেয়র কাউন্সিলররা বেতনভাতা দুই থেকে ৬৪ মাস পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। এ জন্য পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা, পেনশন ও মেয়র কাউন্সিলরদের সম্মানি ইউনিয়ন পরিষদের মতো সরকারের অনুন্নয়ন খাত থেকে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএস)।

সংগঠনের নেতারা জানান, সরকারের নির্বাহী বিভাগের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্থানীয় সরকার একটি। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯(১) এ ‘প্রশাসনিক একাংশ’ হিসেবে স্বীকৃত স্থানীয় শাসন  এর গুরত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভা অন্যতম। ৫৯ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কর্মরত কর্মচারীদের কথা উল্লেখ রয়েছে তারা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। পৌরসভা চাকরি বিধিমালা ২০০৯-এর ৫ ধারা অনুযায়ী পৌরসভার চাকরিকে সার্ভিস হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষকে সেবা প্রদান করে থাকে। তা ছাড়া সরকারের বিশেষ কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নে সার্বিকভাবে সহায়তা করে থাকে। অথচ সেসব পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতনভাতা নিয়মিত পাচ্ছেন না। অবসরে গেলে অবসর ভাতা/পেনশন পাচ্ছেন না। সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় পৌরসভার অন্যান্য অনুদান খাতের বেতন বাবদ দেশের ৩২৭টি পৌরসভাকে ১৩ কোাটি ৬৭ লাখ চার হাজার টাকা বেতনভাতা খাতে সহায়তা প্রদান করছে, যা চাহিদার ১ শতাংশের চেয়ে কম। অথচ সরকার এ খাতের টাকা বৃদ্ধি করে উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মতো ১০০ শতাংশ সহায়তা প্রদান করতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও পৌরসভা ও পঞ্চায়েতে ১০০ শতাংশ বেতনভাতা সরকারি অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ম ই তুষার  বলেন, দেশে মোট পৌরসভা আছে ৩২৭টি। এর মধ্যে ২৬০টি পৌরসভার বেতনভাতা বকেয়া রয়েছে। ২০১৭ সালে ৬০ ভাগ পৌরসভায় বেতনভাতা বকেয়া থাকলেও প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ ভাগে।

তিনি আরো জানান, পৌরসভাগুলোতে বর্তমানে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর মোট সংখ্যা ৩৫ হাজার ১৩৯ জন। এর মধ্যে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ১২ হাজার ৬৯৫ জন। বর্তমানে বার্ষিক মোট বেতনভাতা, অবসর ও পেনশন ভাতা, মেয়র-কাউন্সিলরদের সম্মানি ও অন্যান্য চাহিদাসহ মোট প্রয়োজন এক হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। তবে বকেয়া রয়েছে ৬৪২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া অবসর সুবিধা না পাওয়া ৯৬৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাওনা রয়েছে ১২০ কোটি টাকা।

ম ই তুষার বলেন, বেতনভাতা বকেয়া থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, পৌরসভার সেবার মান বৃদ্ধিসহ সাংবিধানিক এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের মতো পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা, পেনশন ও মেয়র কাউন্সিলরদের সম্মানি সরকারের অনুন্নয়ন খাত থেকে দেয়ার কোনো বিকল্প নেই।

এমএমএ/