তিতাসের দুর্নীতি নিয়ে দুদকের প্রতিবেদন

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিতাসের ২২ খাতে সম্ভাব্য দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করেছে

এগুলো হলো- অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগে অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃসংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটরে গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান-সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশন অপেক্ষা গ্যাস কম সরবরাহ করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছাকৃতভাবে ইভিসি (ইলেকট্রনিক ভলিউম কারেক্টর) না বসানো ইত্যাদি।

দুদকের দুর্নীতি-সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিম কর্তৃক প্রণীত অনুসন্ধানী এবং পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদনে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

বুধবার (১৭এপ্রিল) দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ১২ দফা সুপারিশও করেছে দুদক।

দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, দুর্নীতির জনশ্রুতি রয়েছে এমন ২৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ/অপচয়ের দিকগুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণগুলো চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০১৭ সাল থেকে ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করে দুদক।

তিনি আরও বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার যে ঘোষণা দিয়েছে, কমিশন সে ঘোষণা বাস্তবায়নে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বহুমাত্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।

দুদকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দুদকের এই প্রতিবেদন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে শূন্যসহিষ্ণুতা নীতি ঘোষণা করেছেন, এ মন্ত্রণালয়ে তা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হবে।

নাবা/ডেস্ক/ওমর