তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি | নাগরিক বার্তা

তানোরে ইজিপিপি প্রকল্পে স্মরণকালের সর্ববৃহত দূর্নীতি

রাজশাহীর তানোরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পে স্বরণকালের সর্ববৃহত অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীদের অভিমত, তানোরে ইজিপিপি প্রকল্পে এর আগে এতো বড় অনিয়ম-দূর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একশ্রেণীর কর্মকর্তা ও প্রকল্প সভাপতিরা মিলেমিশে নামমাত্র কাজ করে আবার অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেই ইজিপিপি প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা তছরুপ করেছে।

স্থানীয় অধিবাসীরা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকা সরেজমিন অনুসন্ধান করার দাবী তুলেছে। জানা গেছে, তানোরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনা বেক্ষন, মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য চলতি অর্থ বছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তর থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী বা অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্প গ্রহন করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার যোগ সাজশে অধিকাংশ প্রকল্প সভাপতি প্রকল্পের শ্রমিকদের না জানিয়ে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে গোপণে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে সিংহভাগ টাকা তারা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিস্ট প্রকল্প এলাকার বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়ধীন প্রকল্প সরেজমিন অনুসন্ধান করলেই ইজিপি প্রকল্পে অনিয়ম ও দূর্নীতির সত্যতা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার অধিবাসীরা প্রকল্প এলাকা সরেজমিন অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা এবং দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) উপ-পরিচালকের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, এবার ইজিপিপি প্রকল্পে অনিয়ম-দূর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বিশ্বাস না হলে অনুসন্ধান করলেই থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তানোরে ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় (ইউপি) চলতি অর্থবছরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি (ইজিপিপি) ৩৪টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং এক হাজার একশ’ জন শ্রমিকের ৪০ দিন করে কাজ করার কথা রয়েছে। গতকাল সরেজমিন, কাঁমারগা ইউপির বারঘরিয়া ও কাঁমারগা স্কুল, কলমা ইউপির চকরতিরাম ও মালবান্ধা এবং বাধাইড় ও পাঁচন্দর ইউপির কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শনে দেখা গেছে, সাইনবোর্ডে উলে­খিত তথ্যর সঙ্গে বাস্তবতার আকাশ-পাতাল দৃশ্যমান পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে অনেক প্রকল্পের আবার কোনো সাইনবোর্ডই নাই।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, অধিকাংশক্ষেত্রে কাজ না করেই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা তুলে নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। তারা বলেন, এভাবে সরকারী অর্থ লোপাটের ঘটনায় জনমনে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য ‘মেম্বার’ বলেন, বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের আগেই অফিস খরচে অনেক টাকা ব্যয় হয়ে যায় বাকি টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্প সরেজমিন অনুসন্ধান করলেই এর সত্যতা নিশ্চিত হবে। এব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তারিকুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ইজিপিপি প্রকল্পের কাজ চলছে, তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রমিকের ব্যাংক হিসেবে টাকা দেয়া হয় এখানে অনিয়ম-দূর্নীতির কোনো সুযোগ নাই।

নাবা/ডেস্ক/রাজু