ঢাকার ফুটপাতে শিক্ষিত তরুণদের আধিক্য

 

প্রতি বছর দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাশ করে বের হচ্ছে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী। তবে চাকরির বাজারে এদের সবাইকে জায়গা দেয়ার সুযোগ হচ্ছে না। সংকট কর্মক্ষেত্রে। তাই চাকরি বঞ্চিতদের একটি বড় অংশ রয়ে যাচ্ছে অনিশ্চয়তায়। আবার এদের অনেকেই জীবনের তাগিদে ঝুঁকছেন ভিন্ন পেশায়। কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছেন হকারের খাতায় নাম লেখাতে। রাজধানীর ফুটপাতের দোকানগুলোকের দিকে তাকালে এমন অনেক শিক্ষিত হকার চোখে পড়ে। দিন দিন এই সংখ্যা কমছে না, বরং বেড়েই চলেছে।

কথা হয় কয়েকজন শিক্ষিত হকারের সঙ্গে। তাদের ভাষ্য- দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সাথে চাকরির বাজারের অসমতা হকার হতে বাধ্য হয়েছেন। দেশের বাজারে চাকরির হাহাকার। পড়ালেখা শেষ করে চাকরি না পেয়ে তারা দীর্ঘদিন হতাশায় ভুগেছেন। পরে বাধ্য হয়ে এসেছেন হকারের পেশায়। যখন পার্ট টাইম জব আর টিউশনির বাজারেও অসুস্থ প্রতিযোগীতা। হতাশার কারণে অনেকে পা বাড়াচ্ছে অন্ধকার পথে। তখন হকার হওয়ার চেয়ে ভাল পথ খুঁজে পাননি এসব শিক্ষিত তরুণরা। দিনদিন রাজধানীর ফুটপাতে শিক্ষিত তরুণদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে।

পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে চাকরির পিছনে না ছুটে নিজেই কিছু করার মাধ্যমে শুরু করছেন আয়ের পথে হাটা। স্বল্প পুঁজিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা শুরু করছেন তারা। ছোট একটা টেবিল বা ছোট গাড়িতে শুরু করছেন বেকারত্বের অভিশাপ গুছিয়ে সামনে পথ চলার লড়াই। এ লড়াই অভিশাপ থেকে মুক্তির লড়াই। রাস্তার পাশে ফুটপাতে কাপড়, চাইনিজ খাবারসহ নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। রাজধানীর মিরপুর, গুলিস্তান, ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, শ্যামলির বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। অনেকেই সন্ধ্যার পরে ফুটপাতে বসে বিক্রি করছেন শার্ট, প্যান্ট, টি-সার্টসহ নানা ধরনের পোশাক। আবার অনেকে স্বল্প পরিসরে বাসা থেকে খাবার তৈরি করে এনে বিক্রি করছেন রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাতে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেনের বিপরিতে ফুটপাতে কয়েকজন তরুণের মতো পোশাকের দোকান নিয়ে বসেছেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী পারভেজ হাসান সুমন। ফুটপাত নগরবাসীর চলার পথ। আর একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে সেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার কারণ জানতে চাইলে সুমন বলেন, ‘বর্তমানে চাকরির বাজারের প্রতিযোগীতায় সবাই চাকরি পাচ্ছে না। আবার কেউ চাইলেই বড় পরিসরে ব্যবসা করতে পারেন না। চাকরি নামক সোনার হরিণের দেখা না পাওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাশায় ভোগে আমাদের মত নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। পড়াশোনার জীবনে যেমন লড়াই করতে হয়েছে। আবার ঠিক পড়াশোনার পরে পরিবারের হাল ধরতে না পারার হতাশা সবচেয়ে বেশি ঘিরে ধরে। ঈদ কে সামনে রেখে অনেক তরুণ ব্যবসায় নামলেও বহু তরুণ ফুটপাতের ব্যবসাকে নিজের পেশা হিসেবে নিয়েছে। দিন শেষে পাঁচশ’ থেকে হাজার টাকা আয় থাকে। যা দিয়ে নিজের পড়াশোনা বা পরিবারের দায়িত্ব পালনে ভূমিকা রাখতে পারছেন অনেকে।’

নাবা/২০মে/তারেক