ডাকসু নির্বাচনঃ ছাত্র ফেডারেশনের ইশতেহার ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন উপলক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্র ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক ইশতিয়াক।

ইশতিয়াক লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যে সর্বোচ্চ সক্রিয়তা কাম্য ছিল, সেটার উপযুক্ত পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করতে পারেনি। একাডেমিক ভবনে ভোটগ্রহণ ও সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচন পরিচালনার মতো যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচন ঘিরে ৪১ দফা ইশতেহার তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে রয়েছে- গেস্টরুম প্রথা চিরতরে নিষিদ্ধ করা, গণরুম ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে প্রথমবর্ষেই ‘নো ফ্লোরিং, নো সিঙ্গেল’ নীতিতে ও দুই-তলা বিছানা পদ্ধতিতে বৈধ সিট, মাসিক ক্যান্টিন মনিটরিং, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি হলে কাউন্সেলিং সেন্টার স্থাপন, ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয়ভাবে মডেল ফার্মেসি স্থাপন ও ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা, মশা ও ছারপোকা নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষক মূল্যায়নে রেটিং পদ্ধতি চালু, বিশেষজ্ঞ বোর্ডের মাধ্যমে গবেষণার বাজেট নির্ধারণ, যৌন নিপীড়ন ও প্লেজারিজমের (লেখা চুরি) অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ,

এছাড়ও  লাইব্রেরি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা, সক্ষমতা ছাড়া নতুন ডিপার্টমেন্ট চালুর প্রক্রিয়া বন্ধ করা, আদিবাসীসহ সব জাতিগোষ্ঠী, ধর্ম ও বর্ণের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত, টিএসসিভিত্তিক সংগঠনগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন করা। এছাড়া রেজিস্ট্রার বিল্ডিং ও প্রশাসনিক কাজ ডিজিটালাইজড করা, ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন, মারধর, হয়রানি কিংবা ভয়-ভীতির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় বিশেষ নিরাপত্তা টিম ও ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন চালু করা, খেলার মাঠ ও টিএসসির বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত আয়-ব্যয়ের হিসাবে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, প্রক্টোরিয়াল টিমের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ,

অনলাইনে ও অফলাইনে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও বিচারে টাস্কফোর্স গঠন, ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দানের স্বার্থে মেয়েদের হলের কলাপসিবল গেটে তালা লাগানো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, রাত ৯টা পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য বাস চালু ও জরুরি রুটে ট্রিপ বাড়ানো, মেয়েদের প্রতিটি হলে ওষুধ ও স্যানিটারি উপকরণ সমৃদ্ধ ফার্মেসি স্থাপন এবং রাতে ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট’ এর জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত, হলে প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারণে মেয়েদের হলে গণভোট গ্রহণ ইত্যাদি।

ছাত্র ফেডারেশন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা হলেন- সমাজসেবা সম্পাদক প্রার্থী মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্য প্রার্থী মো. সালমান ফরাজী, আরমানুল হক, শেখ রাহাতিল আশেকান।

উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজীর।

নাবা/নিউজ ডেস্ক/এআর