ট্যাংকার বিস্ফোরণ, ইরানকে দোষারোপ, ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন

ওমান উপসাগরে তেলবাহী দুই ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে তারা ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করেছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যরা জাপানের মালিকানাধীন কোকুকা কারেজিয়াস নামক ট্যাংকার থেকে অবিস্ফোরিত মাইন সরিয়ে নিচ্ছে।বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণের কবলে পড়া দুই ট্যাংকারের একটি এটি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলার স্থল থেকে প্রমান সরানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই কাজ করেছে ইরান।

ঘটনার পর চারজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন তাদের কাছে ওই হামলার ছবি আছে। ওই কর্মকর্তাদের একজন জানান ভিডিওটি  মার্কিন সামরিক বিমান থেকে ধারণ করা।

সেখানে দেখা যায়, একটি ছোট নৌকা জাপানি ট্যাংকারের পাশে এসে দাঁড়ায়। একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ট্যাংকার থেকে কিছু সরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই বস্তুটি অবিস্ফোরিত মাইন।

যুক্তরাষ্ট্র জানায়, মার্কিন ডেস্ট্রেয়ার জাহাজ ও একটি ড্রোন থাকার পরও সেখানে নৌকাটি অবস্থান করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলার প্রমাণ মুছে ফেলতেই সেখানে গিয়েছিলো সেটি।

আরেকজন কর্মকর্তা সিএনএন-এর কাছে দাবি করেন, ঘটনার সময় সেখানে অনেকগুলো ইরানি ছোট নৌকা প্রবেশ করেছিল। এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, ইউএসএস বেইনব্রিজ কিংবা এর মিশনের ওপর কোনও রকম হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় ইএসএস বেইনব্রিজ কোকুকা কারেজিয়াসের কর্মীদের সহায়তা করছে।  ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট ট্যাংকার ওনার্স বলছে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা বলে সন্দেহ করছে তারা।

জাতিসংঘের নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোনাথান কোহেন বলেন, এটা এই অঞ্চলে ইরানের সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার আরেকটি উদাহরণ। তবে ইরানি মিশন এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে।

মিশনের মুখপাত্র আলিরেজা মিরইউসেফি বলেন, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছে। এই হামলার সর্বোচ্চা নিন্দা জানাই আমরা।’তিনি বলেন, এই সন্দেহজনক ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন।

এমন সময় নতুন এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১২ মে আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

তখন সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়,এরমধ্যে তাদের দুটি তেল ট্যাংকার রয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তু হওয়া চারটি জাহাজের একটি নরওয়েজিয়ান পতাকাবাহী ও একটি আমিরাতের। এ বিস্ফোরণকে ‘অন্তর্ঘাতমূলক হামলা’ বলে উল্লেখ করে আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

ক্ষতিগ্রস্ত দুই সৌদি ট্যাংকারের মধ্যে একটির অপরিশোধিত তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি,ইরানের ইন্ধনেই ওই হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনায় তদন্তের দাবি জানায় তেহরান।

গত মাসেই মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক জন বোল্টন বলেছিলেন, পেন্টাগন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইরানি হুমকি’ মোকাবিলায় আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়া স্ট্রাইক গ্রুপ ও বোমারু টাস্কফোর্স মোতায়েন করা হবে।  সুত্র: বিবিসি।

নাবা/ডেস্ক/তানিয়া রাত্রি