ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে পঞ্চগড়ের করতোয়া সেতু

পঞ্চগড় জেলা শহরের করতোয়া নদীর সেতুটি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। সেতুটির প্রতিটি পোল জয়েন্টে ফাঁকার পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়া খসে পড়ছে পলেস্তরা, উঠে যাচ্ছে ওয়েরিং কোর্স। কোথাও কোথাও সেতুর রড বেড়িয়ে গেলে সড়ক বিভাগ থেকে পাথর বিটুমিন দিয়ে ঝুঁকি চাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে বুধবার দুপুরে সেতুটি পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

পঞ্চগড় শহরের ঠিক মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া করোতোয়া নদীর উপর নির্মিত সেতুটি সারা বাংলাদেশের সাথে পঞ্চগড় কে সংযুক্ত করার একমাত্র সেতু।কিন্তু সেতুটি বর্তমানে ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন যে কোন সময় সেতুটি ভেঙ্গেও পড়তে পারে।

প্রতিদিন তেঁতুলিয়া থেকে সেতুটির উপর দিয়ে ধারণ ক্ষমতার অধিক মালামাল নিয়ে চলাচল করছে শত শত ট্রাক। কখনো কখনো ৪০ থেকে ৫০ টন মালামাল নিয়ে চলাচল করছে। সেতুটির সক্ষমতার বেশি ভারি যান চলাচল করায় সেতুটি ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর নেপালের সাথে এবং ২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি ভারতের এবং ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি ভুটানের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চালু হওয়ার পর সেতুটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।। এরপর থেকে প্রতিদিন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে পাথরসহ ভারি পণ্য নিয়ে কয়েকশ ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে দিচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নির্ধারিত ওজন সীমার কয়েকগুণ বেশি পণ্য নিয়ে সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল করছে। এতে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের মতে , ১৯৮৮ সালে পঞ্চগড় জেলা শহরের প্রবেশ মুখে করতোয়া নদীর উপর ২৭৫ মিটার করতোয়া সেতু নির্মাণ করা হয়। শহরের কোল ঘেঁষে নির্মিত সেতুটিই হয়ে উঠে পঞ্চগড়ের সাথে দেশের অন্য প্রান্তের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। সড়ক ও জনপথ বিভাগের মতে উপরের ওয়েরিং কোর্স নষ্ট হয়ে গেলেও সেতুটির মূল কাঠামো এখনো ঠিক আছে ।

এদিকে গত বুধবার দুপুরে সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পর্যবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। এসময় বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, আসলেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রæত সংস্কার করে দেয়ার জন্য আমরা চিঠি পাঠাবেন তিনি।

 

নাবা/ডেস্ক/হাফিজ