জেলেদের চাল নিয়ে এ কেমন জালিয়াতি!

কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা নুনিয়ারছড়া। এখানকার অধিকাংশ মানুষ সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের ঘোষণায় দারুণ কষ্টে সময় কাটাচ্ছে কক্সবাজারের উপকূলীয় জেলেরা।

এখন ওই এলাকায় দেখা নেই মাছ বেচা-কেনা কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের দৃশ্য। গত ২০ মে থেকে বেকার হয়ে যাওয়ায় জেলে ও শ্রমিক পরিবার অনেকটা কষ্টে দিন পার করছে।

জেলেদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা সরকারি সহায়তার ৪০ কেজি চাল বিতরণেও অনিয়ম করছেন। অবশ্য অনিয়মের কথা অস্বীকার করছেন জনপ্রতিনিধিরা।

জেলা প্রশাসক বলছেন, চাল নিয়ে অভিযোগ আসলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাগরে মাছ ধরা বন্ধকালীন প্রকৃত জেলে ও মৎস্য শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার দাবি এ শ্রমিক নেতাদের।

কক্সবাজার পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, এদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের ৪০ কেজি করে চাল দিয়েছি।

প্রায় দু’লক্ষাধিক জেলে ও মৎস্য শ্রমিক থাকলেও সহায়তার আওতায় এসেছে শুধুমাত্র নিবন্ধিত কিছু জেলে।

কক্সবাজার ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক কলিম উল্লাহ বলেন, জেলেদের জন্য যে সাহায্য আসে তার অর্ধেক তারা পান বাকিটা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা লুটপাট করছেন। আমরা চাই প্রকৃত জেলেরা সরকারের দেয়া সবটুকু সহায়তাই যেন পান।

কক্সাবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, চাল যে ৪০ কেজির কম দেয়া হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ জেলা প্রশাসনের কাছে আসেনি। যদি এমনটা হয়ে থাকে তবে তা অত্যন্ত গর্হিত হয়েছে। এ ধরণের কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আমাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা মৎস্য অফিসের দেয়া তথ্য মতে, সরকারি সহায়তার আওতায় প্রায় ৪৬ হাজার নিবন্ধিত জেলে। তবে এখনো সহায়তা পায়নি রামু উপজেলার ২২’শ নিবন্ধিত জেলে।
নাবা/ডেস্ক/কেএইচ