জেনে নিন শাক-সবজির গুণাগুণ

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি থাকা অনিবার্য। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা শাক-সবজির গুণগত মান জেনেই খেয়ে থাকি।

কোনো কোনো সবজি স্বাস্থ্যের উপর হামলা ফেলে। আবার উজ্জল স্বাস্থ্যের জন্য শাক-সবজির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

তাই জানা প্রয়োজন কোন সবজিতে কি ধরনের গুণাগুণ রয়েছে।

সবজির গুণাগুণ সম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ড. নাজমুল হোসেন বলেন,‘আমরা প্রতিদিনই কম বেশি সবজি খাই। স্বাস্থ্যকে সবল রাখতে আমাদের প্রত্যেকের জানা উচিত কোন সবজিতে কি গুণাগুণ রয়েছে।’

করলা ও তেতো পাটশাক : এটি খাবারে রুচি বাড়াতে ও মেদ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া ত্বকের চুলকানি ও কৃমি রোধে উপকার পাওয়া যায়

আলু ও টমেটো : প্যান্টোথেনিক আছে বলে হাতের তালু এবং পায়ের তালু জ্বালা করার উপসর্গ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

গাঢ় সবুজ ও হলুদ শাক-সবজি রাতকানা রোগ, হাড় ও দাঁত গঠনে এবং স্নায়ুবিক অসুস্থতায় বেশ উপকারী।

অজীর্ণ ও ডায়রিয়া হলে সবজি বর্জন করা উচিত। বিশেষ করে আঁশযুক্ত সবজি।

আলসারের রোগীদের খাবারে কাঁচা সবজি, পেঁয়াজ, ডাঁটা, কাঁচামরিচ, কাঁচা শসা, বরবটি বাদ দিলে ভালো হয়।

কিডনিতে পাথর হলে অক্সালিক এসিডযুক্ত সবজি যেমন পুঁইশাক, টমেটো, বিট, সজনেপাতা, কচু, কচুর শাক, কলার মোচা, মিষ্টি আলু বাদ দিতে হবে।

পাঁচ-ছয় মাসের শিশুদের গাঢ় সবুজ ও হলুদ সবজি সিদ্ধ করে চালুনি দিয়ে চেলে নরম করে ক্বাথ বের করে খাওয়ানো যেতে পারে।

শিশুর জন্মের পর মায়েদের গাজর, বিট, টমেটো, লেটুসপাতা, বাঁধাকপি, মুলা খাওয়া উচিত। এতে মুখে যে কালো ছোপ পড়ে তা দূর হয়ে যায়। পাকা করলার বীজ শুকিয়ে গুঁড়ো করে সাত-আট চা-চামচ পানি মিশিয়ে ছেঁকে খেতে হবে। কিছুদিন খেলে ভিটামিন বি-এর ঘাটতি দূর হবে।

গলাব্যথা ও সর্দি-কাশির জন্য তুলসীপাতার রস খুবই উপকারী। রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য কচুর শাক, লালশাক, পালংশাক, বিট, লেটুসপাতা খুবই উপকারী।

এ ছাড়া ধনেপাতা ও পুদিনাপাতার ভর্তা খাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালের সবজি ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও চালকুমড়ায় পানির পরিমাণ বেশি থাকে বলে শরীরকে শীতল ও সুস্থ রাখে। কাঁচা পেঁপে পরিপাক শক্তির সহায়ক।

সুতরাং সবজি শুধু স্বাদ ও পুষ্টির জন্য নয়। এর বিষয়ে ভালোভাবে জেনে শরীরের প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তবেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এর স্থান দিতে হবে।

নাবা/ডেস্ক/ওমর