‘‘জালিমের কারাগারে শহীদ হয়েছেন মুরসি’’

মিসরের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। গতকাল সোমবার ইস্তানবুল থেকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, জালিমের কারাগারে শহীদ হয়েছেন মুরসি।

কারাগারে নিক্ষেপ করে যারা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে সেই জালিমদের ইতিহাস কখনও ক্ষমা করবে না। এরদোগান বলেন, আমাদের চোখে মুরসি একজন শহীদ; যিনি তার বিশ্বাসের জন্য জীবন দিয়েছেন।

ইতিহাস সেই একনায়ক কে (জেনারেল সিসি) ক্ষমা করবে না, যে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করেছে এবং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার যাবতীয় চক্রান্ত করা হয়েছিল।

আদালতে নিজের ওপর জুলুমের প্রতিবাদ করেছেন তিনি। মিসরের জনগণ ও নিজের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর মুরসির এ মৃত্যু নির্যাতনের একটি  দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, মিসরীয়দের মুক্তির জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মুরসি যে সংগ্রাম করে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে মুসলমানরা স্মরণ করবে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আদালতের এজলাসে তার মৃত্যু হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আল্লাহতাআলার দরবারে আমাদের শহীদ ভাইদের জন্য রহমত কামনা করছি। নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করে কারাগারে পাঠানো এবং বিচারের নামে হাজার হাজার মুরসি সমর্থককে মিসরের সামরিক  সরকার বন্দি করে রাখলেও এ ব্যাপারে কোনো  মন্তব্য না করায়  পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করেন এরদোগান।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ মুরসি তার হাজার হাজার বিপ্লবী সমর্থককে নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। কিন্তু পাশ্চাত্যের কেউ এর প্রতিবাদ করেনি। এরদোয়ান বলেন, জেনারেল সিসি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে  বলপূর্বক ক্ষমতা দখল করে ৫০ জনকে ফাঁসি দিয়েছেন।

তার দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে পশ্চিমারা সব সময়ই নীরব থেকেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ। তুরস্ককে ফাঁসির আদেশ বাতিলের জন্য তারা বারবার আহবান জানাচ্ছে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা এমন সময়ে খুনি সিসি-র আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মিসরে সম্মেলনে অংশ নিয়েছে যখন দেশটির নাগরিকদের ফাঁসি দেওয়া হচ্ছিল। এ থেকে প্রমাণিত হয় ইউরোপ মানবাধিকার বিষয়ে দ্বিমুখী আচরণ করছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর এমন আচরণকে ভণ্ডামি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এরদোগান। তিনি বলেন, মিসরের নিষ্ঠুর  শাসক হয়তো গ্রেফতারকৃত নেতাদের অত্যাচার করে সাময়িক বিজয় অর্জন করেছে। কিন্তু তাদের ত্যাগ-তিতীক্ষার ইতিহাস মানুষের মন থেকে মুছে দিতে পারবে না। সূত্র: চ্যানেল নিউজ এশিয়া, আনাদোলু এজেন্সি।

নাবা/ডেস্ক/তানিয়া রাত্রি