জন্মভূমি যখন প্রতিপক্ষ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে জন্ম অথচ সেই জন্মভূমিই আজ তার প্রতিপক্ষ। বলছি ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত জফরা আর্চারের কথা। বিশ্বকাপে আজ ইংলিশদের জার্সিতে নিজ জন্মভূমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন আর্চার।

বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বংশোদ্ভূত জফরা আর্চারকে দলে নিয়েছে ইংলিশরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইংলিশদের হয়ে আরো ম্যাচ খেললেও এই প্রথম নিজ দেশের বিপক্ষে খেলছেন বাবার্ডোজের জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার।

২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছিলেন আর্চার। এরপর আর ক্যারিবিয়ানদের হয়ে খেলা হয়নি তাঁর। সাসেক্সের হয়ে যোগ দিয়েছেন ইংলিশ কাউন্টিতে। ২০১৬ সালে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর।

দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখিয়ে সকলের নজরে চলে আসেন তিনি। এরপর বিশ্ব জুড়ে ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো খেলে বেড়িয়েছেন তিনি। বৈশ্বিকভাবেই সকলের নজরে চলে আসেন এই ক্রিকেটার।

তার স্বপ্ন ছিল ইংল্যান্ডের হয়ে খেলবেন। কিন্তু ইংলিশ দলে জায়গা পেতে হলে মানতে হয় কিছু নিয়মকানুন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের নতুন রেসিডেন্সি নিয়ম অনুযায়ী ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে একজন খেলোয়াড়কে তিন বছর সেখানে বসবাস করতে হবে (বছরে ২১০ দিন, এপ্রিল-মার্চ) এবং আইসিসির কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে সবশেষ তিন বছরে কোনো ঘরোয়া কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলা।

আর্চারের বাবা একজন ইংলিশ এবং আর্চারের বৃটিশ পাসপোর্ট রয়েছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী ২০২২ সালের আগে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ পেতেন না তিনি। কিন্তু নতুন নিয়মে কারো বয়স ১৮ হওয়ার পর তিন বছর ইংল্যান্ডে অবস্থান করলে তিনি সে দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন। আর্চার ২০১৫ সাল থেকে ইংল্যান্ডে আসা-যাওয়া করছেন।

সে সুবাদেই তরুণ এই অলরাউন্ডারকে নিজেদের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ দিয়েছেন ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড।

(নাবা/ ১৪ জুন/ হিমু)