জঙ্গিবাদ নিপাত যাক

আট বছরের জায়ান। কি সুন্দর নিশ্পাপ  চেহারা। বাবা মায়ের সাথে বেড়াতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল। পৃথিবীর শেষ  পলক ফেলার আগে সে দেখল মানুষের বর্বর চেহারা কুৎসিত রুপ।   কোন দোষ না করেও নির্মমতার স্বীকার। একবুক ঘৃনা নিয়ে সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।  কি লিখব? ঘৃনা আর অক্ষম আক্রোশ ছাড়া কিছুই নেই আমাদের। আসলে আমাদের বেঁচে থাকার  কোনো মানে হয়না।  কারন আমরা আমাদের শিশুদের নিরাপদ পৃথিবী দিতে পারছিনা। এত জিঘাংসা, এত ঘৃনা, এত অমানবিকতা।  যারা ধর্মের নামে ঘৃনা ছড়ায় তারা সবাই দোষী। তাদের সবার হাত রক্তে মাখা।

পবিত্র ইস্টার সানডে। বোমা হামলায় কেঁপে উঠল  শ্রীলঙ্কা। তখনও সকাল হয়নি।  প্রভু যীশুর ভক্তরা   গীর্জায় গেল  তার  শান্তির বার্তা শুনতে। অথচ  নিজেরাই যেন ক্রুশবিদ্ধ হয়ে গেল। মুহম্মদ ,যীশু  এরা এসেছিলেন শান্তির বার্তা নিয়ে কিন্তু সে শান্তি আজ কোথায়  ?

এক যুক্তিহীন ধর্মীয় উন্মাদনার নাম  জঙ্গিবাদ। সারা পৃথিবীকে  অন্ধকার সময়ের দিকে ঠেলে দেয়াই  যার উদ্দেশ্য। মানুষের সুস্থ চেতনা বিনষ্ট করে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করা  হচ্ছে জঙ্গিবাদের লক্ষ্য। পৃথিবী ক্রমাগতভাবে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। সর্বত্রই জঙ্গি হামলার  আশঙ্কা। আমরা বেড়াতে  যাব হাসতে হাসতে  ফিরে আসি  লাশ হয়ে। আমরা কি আর কখনও স্বাভাবিক ভাবে ঘুরে বেড়াতে পারবনা? আসলে কি চায় তারা? কেন এই বর্বরতা করছে? তার  কারন জানায় নি অথচ একটার পর একটা নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। আর মানুষগুলো তাদের মৃত্যুর কারন জানতেই পারছেনা। কি তাদের অপরাধ? ধর্ম যেমন নিজের  মৃত্যুও নিজের। ধর্ম কেউ মানুক আর না মানুক মৃত্যু সবাই মানে। আমাদের মৃত্যু কি কতগুলো জঙ্গির হাতে বন্দী?

আসল কারন কি? শ্রীলঙ্কায় গীর্জায় ,মসজিদে হামলা করা হয়েছে। সেইসাথে ৫ তারকা হোটেলেও হামলা করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০। দুই ধর্মের দুটি পবিত্র দিনে হামলাটি করা হল।  আবার এনটি জে বলে একটি মুসলিম সংগঠন এর দায় স্বীকার করেছে। পুরো নাম ন্যাশনাল তৌহিদী জনতা। এ দলটি ইসলামী স্টেটের অঙ্গ সংগঠন। এরা ইসলামপন্থি সন্ত্রাসী ধারনা লালন করে। কিছুদিন আগে  তারা গৌতম বুদ্ধের মুর্তিও ভেঙ্গেছে।  বাংলাদেশেও ২০১৬ সালে হলি অর্টিজানের মত ঘটনা ঘটেছে। তারাও আল্লাহু আকবার বলে মানুষ মেরেছে।  এক অদ্ভুত পৃথিবী যেখানে ধর্ম জঙ্গিবাদে পরিনত হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি ছাড়া আর বেশীর ভাগ মুসলিম জঙ্গিবাদ। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে অধিকাংশ জঙ্গি সংগঠন ইসলামপন্থিদের। এর কারন কি? একজন ধার্মিক মুসলমান  হবেন সহনশীল তারা মানুষ হত্যা করবে কেন? আর নীরিহ মানুষ হত্যা করে কি ইসলাম কায়েম হল?

এর জন্য দায়ী ক্ষমতার লোভ। আর দায়ী আমাদের পারিবারিক শিক্ষা। একটি পরিবারে বিশেষ করে মুসলিম পরিবারে ধর্ম  শিক্ষার উপর যত  গুরুত্ব দেয়া হয় । মানবতা বা ভালবাসা শেখানোর  উপর তত গুরুত্ব দেয়া হয়না। অন্য ধর্মপালনকারী বা মতাদর্শের লোকদের শ্রদ্ধা করতে শেখানো হয় না। বিধর্মীর কালচার করা যাবেনা, বিধর্মীর খাবার খাওয়া  যাবেনা এগুলো শিখিয়ে ঘৃনা মজ্জার ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এই ঘৃনাই একসময়ে ধর্মের ছায়ায় জঙ্গিবাদে পরিনত হয়।  যেসব ইসলামী জঙ্গিরা আছেন বা এ মতাদর্শে বিশ্বাসীরা আছেন তারা হয়ত আমার মত অর্বাচীনের লেখা পড়বেননা তারপরও তাদের উদ্দেশ্যে বলছি আপনারা বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী হামলা করে  মুসলমান ভাইবোনদের ক্ষতি করছেন। আর মুসলিম পরিবারের উদ্দেশ্যে বলছি আপনারা ছেলেমেয়েদের ঘৃনা শেখাবেননা । সব ধর্মের এবং সব উপাসনালয় কে শ্রদ্ধা করতে শেখান। নিজের  সংষ্কৃতিকে ভালবাসতে শেখান।

সবশষে জায়ান সহ শ্রীলঙ্কার নিহতদের আত্নার শান্তি কামনা করি। পরম করুনাময় ওপারে তাদের ভাল রাখুন। পৃথিবী থেকে উগ্র জঙ্গিবাদ ,মৌলবাদ  ও হিংস্রতা  নিপাত যাক। বেঁচে থাক মানবতা ।