চৌগাছায় জেলা পরিষদের মার্কেট নির্মানে বাঁধা

চৌগাছা (যশোর) :  যশোরের চৌগাছায় জেলা পরিষদের জমিতে সরকারি ভাবে মার্কেট নির্মানের ঘোষণায় মৃধাপাড়া  মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । জেলা পরিষদের ঐ জমি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগিতায় রীতিমত ভাড়া আদায় হয়ে আসছে । স্থানীয়রা জেলা পরিষদের ঐ জমিতে মার্কেট নির্মান করে জনসাধারণের মাঝে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান । পাশাপাশি ঐ অসাধু মহলের অবৈধ আয়ের উৎস বন্ধেরও দাবি জানান ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর এলাকার পারবাজারে মহিলা কলেজ সংলগ্নে জেলা পরিষদের এই জমি বিদ্যমান । ঐ জমি বছরের পর বছর স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির দখলে । তারা সমুদয় জমি কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে মাসিক হারে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে দশ থেকে পনের হাজার টাকা আয় করছেন । উত্তোলিত টাকা জেলা পরিষদ কখনো পায়না । কাঠ ব্যবসায়ীরা জমিতে বড় বড় কাঠ রেখে স্বাভাবিক ভাবে চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন বছরের পর বছর । আর এসবের নেপথ্যে কলেজ অধ্যক্ষ ড. মুস্তানিচুর রহমানের নাম উঠেছে একাধিক অভিযোগে । বর্তমানে জেলা পরিষদ জমিটি দখলে এনে মার্কেট নির্মানের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাপযোগ শেষ করেছে ।
ফলে ঐ মহলটি, মার্কেট নির্মান করলে কলেজের পক্ষে বিভিন্ন সমস্যা হবে দেখিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন যার বাস্তবতার সাথে মিল নেই । কারণ এলাকা বাসি জানান জেলা পরিষদ দীর্ঘদিন পরে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছেছে । যেখানে কাঠ ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ের ফলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বহুদিন ধরে । পরিবর্তে লাভ করে যাচ্ছে অসাধু মহলটি । আর এই জন্যই জেলা পরিষদের মার্কেট নির্মানের সিদ্ধান্ত জানার সাথে সাথে মহলটির মাথা ব্যাথা শুরু হয়েছে । নিজেদের আয়ত্বে জমি দখল করে টাকা আয়ের ব্যবসা করতে কলেজের দোহায় দিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করেছেন । সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন সকালে কাঠ ব্যবসায়ীসহ নানা ধরণের লোকের আনাগোনা । ফলে কলেজের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে ।
শনিবার কলেজ গামী একাধিক ছাত্রীর সাথে কথা বললে তারা বলেন, এই জায়গায় মার্কেট নির্মানে আমাদের কোন ক্ষতি হবে না । বরং এইখানে কাঠ ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ের ফলে শিক্ষার্থীদের চলাফেরায় সমস্যা হয় । শিক্ষার্থীরা অবৈধ দখল থেকে জমিটি মুক্ত করে মার্কেট নির্মানে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন । এ বিষয়ে মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, জমিটি যেহেতু জেলা পরিষদের সুতরাং জেলা পরিষদ ইচ্ছা করলে মার্কেট নির্মান করতে পারে । সেখানে মার্কেট হলে মেয়েদের আসা যাওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তাই আমরা একটি আবেদন করেছি । কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের তিনি বলেন অভিযোগটি সত্য নয় ।
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা পরিষদের জায়গা কেউ দখলে রাখতে পারবেনা । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল ক্ষেত্রে ঢেলে সাজানোর জন্য নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন । যশোর জেলা পরিষদও একাত্বতা ঘোষণা করে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে । ইতিমধ্যে আমরা জায়গাটি পরিদর্শন করেছি এবং মাপযোগ শেষ করেছি । মার্কেট নির্মান করলে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হব । জেলা পরিষদ সেখান থেকে কিছু টাকা আয় করতে পারবে । জনগণের কল্যাণে জেলা পরিষদ কাজ করে । তাই ঐ জায়গা কারো দখলে রাখার সুযোগ নেই ।
এমএমএ/