চাঁদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়েছে ভাসুর

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রবাসী ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে কুপিয়েছে বখাটে ভাসুর। এ ঘটনায় ওই গৃহবধু ও তার মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

রাতের অন্ধকারে ঘরে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বখাটে ভাসুর।

আহতদের প্রথমে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাত ২ টায় উপজেলার পৌর ১১ নং ওয়ার্ডের ভাটনীখোলা বেপারী বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, ওই বাড়ির আবদুল খালেকের পুত্র জহিরুল ইসলাম ও সালামত উল্লার পুত্র আরিফুল ইসলাম পরস্পর চাচাত ভাই।

আরিফ সৌদী প্রবাসী। তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম। সম্পর্কে জহির কোহিনুরের ভাসুর। তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। সেই শত্রুতার জের ধরেই জহির তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কোহিনুরকে ছুরিকাঘাত করে আহত করেছে।

আহতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, জহির বরাবরই বখাটে। তার স্ত্রী লাকি আক্তার তাকে ধারদেনা করে দু’বার প্রবাসে পাঠায়। একবারও সে প্রবাসে থাকতে পারেনি।

সবশেষ প্রবাস থেকে ফিরে আসলে স্ত্রীর পূর্ব ঘোষনার আলোকে লাকি জহিরকে তালাক দেয়। এর প্রায় ১ বছর পর তালাককৃত লাকিকে আরিফের স্ত্রী কোহিনুর তার নিজ ভাই সালে আহম্মদের সাথে বিয়ে দেয়।

বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জহির কোহিনুরের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বসত ঘরের পিছন দিয়ে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে এঘটনাটি ঘটায়।

কোহিনুরের দেবর হাবীব বলেন, জহিরের স্ত্রী লাকির সাথে তালাক হওয়ার পর সে বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যায়। মাঝেমধ্যে সে এলাকায় আসতো এবং ভাবীর সাথে খারাপ আচরনসহ হুমকি-ধমকি প্রদান করতো।

তিনি বলেন, ঘটনার রাতে ভাতিজা তারেক ও ভাতিজি মুক্তার ডাক চিৎকারে আমরা ঘুম থেকে উঠে আসি। এ সময় ঘাতক জহির পালিয়ে যায়। ঘরে ঢুকে ভাবীকে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটে পড়ে থাকতে দেখি।

খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার এসআই হাবিবুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখে তাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, আহতদের প্রথমে উয়ারুক মেডিল্যাব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় ভাবীর চিৎকারে ভাতিজি মুক্তা এগিয়ে গেলে জহির তাকেও ছুরিকাঘাত করে। মা ও মেয়েকে আহত করার পর বাড়ি করার ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা আর ভাবীর একটি মোবাইলে নিয়ে যায় সে। এ ব্যাপারে আইনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আহত

কোহিনুরের মেয়ে মুক্তা বলে, মায়ের চিৎকার শুনে আমি ঘুম থেকে জেগে দেখি জহির জেঠার হাতে বড় একটি ছুরি। ওই ছুরি দিয়ে মাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করছে। আমি দৌঁড়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমাকেও তিনি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন।এতে আমিও গুরুতর আহত হই। এধরনের ঘটনাকারীর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানায় সে।

ঘাতক জহিরের পিতা আঃ খালেক বলেন, আমি নিরুপায় অসহায়। আমার পুত্র জহির অবাধ্য। সে আমাকে ও আমার ছোট পুত্রকে কয়েক মাস পুর্বে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। পালিয়ে বেড়ানোর কারনে তাকে আইনের আওতায় আনতে পারিনি। যা আমি পিতা হিসেবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি। বর্তমান ঘটনায় কুলাঙ্গার পুত্র জহিরের ফাঁসি দাবি করেন তিনি।

এলাকাবাসী বলেন, জহির দীর্ঘদিন যাবত বেপরোয়া ভাবে চলাফেরা করছে। পারিবারিক ভাবে কোনো বাধা না থাকায় সে তার ইচ্ছেমত যার তার সাথে এমন ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। এমন বেপরোয়া হওয়ার পিছনে তার অন্যান্য ভাইদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তাদের ইন্ধনেই আজ জহির এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আরিফের স্ত্রী কোহিনুরের শারীরিক যে অবস্থা তা নিয়ে বাড়িওয়ালা ও এলাকার লোকজন আতংকিত। ঘাতক জহিরের কঠোর বিচারের দাবি এলাকাবাসির।
নাবা/সেন্ট্রাল ডেস্ক/কেএইচ/