চাঁদপুরে অসহায় মাজুদার বসতঘর ভাঙচুর 

খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা গ্রামে মাজুদা বেগম নামে এক এতিমের বসতঘর সন্ত্রাসী কায়দায় ভেঙে লুটপাট করে নিয়েছে।

খোলা আকাশের নিচেই ছয় সন্তান সহ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মাজুদা বেগম। সাত বছর পূর্বে তার স্বামী তাজুল ইসলাম মারা যাওয়ায় শিশু সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন মাজুদা। মদনা গ্রামে বাবার বাড়িতে এসে ৬শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করে ১ বছর পূর্বে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিল মাজুদা। সেই সম্পত্তির উপর চোখ পড়ে স্থানীয় দুই ভূমি দস্যু মন্নান খানের ছেলে নয়ন খান ও তার ভাই খোকন খানের। বিধবা নারী মাজুদা বেগমের বসত ঘর তোলার সময় এই দুই ভূমিদস্যু তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাদের উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন।

গত একমাস পূর্বে বিধবা নারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এই দুই ভূমিদস্যু নয়ন ও খোকন প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে বিধবা মাজুদা বেগম এর ঘর ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলে। তার বসতঘরের মালামাল পাশের পুকুরে, ডোবায় ফেলে দেয় ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ সময় তাদের বাধা দিলে বিধবা মাজুদা বেগমের তিন মেয়ের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার পর বিধবা মাজুদা বেগম বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এস আই মমিনুল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান।

পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরেই হামলাকারী ও ভূমিদস্যুরা এলাকার দালাল চক্র ও স্থানীয় মেম্বারকে হাত করে নিয়ে নেতাদের কাছে তদবির করতে শুরু করে। এই নির্মম সহিংস ঘটনায় বিচারের দাবিতে বিধবা মাজুদা বেগম মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো হামলাকারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং বিধবা নারীর বসতঘরটি তুলতে দেওয়া হয়নি।

বিধবা মাজুদার বাবা নুরুল ইসলাম খান জানায়, মেয়ের স্বামী মারা যাওয়ার পর এখানে এসে সম্পত্তি ক্রয় করে বসতঘর নির্মাণ করেছে। এই বাড়ির নয়ন ও খোকন ডাক্তার লোকজন নিয়ে এসে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে তুলে নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, এখন ছেলে সন্তান সহ স্বামী হারা মেয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা এর সঠিক বিচার কামনা করছি।

বিধবা মাজুদা বেগম জানায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর ছয় সন্তানকে সাথে নিয়ে বাবার বাড়িতে এসে জায়গা ক্রয় করে ঘর নির্মাণ করেছি। এই জায়গা আত্মসাৎ করার জন্য নয়ন ও খোকন হামলা চালিয়ে ঘর বাড়ি তছনছ করে ফেলে। এই সন্ত্রাসীরা আমার মেয়ে ও আমার উপর নির্মম ভাবে হামলা চালিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এখন ছেলে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছি। বিচারের দাবিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কোথায় গেলে পাবো আমি বিচার? এমনটাই প্রশ্ন মাজুদার।

নাবা/ডেস্ক/ওমর