চাঁদপুরের দেবপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে স্বামীর আত্মহত্যা

নিহত মাইনুদ্দিনের পাশে কন্যা মিথিলা ফারজানা ও কোলে পুত্র সিয়াম। ছবি: সংগ্রহীত।

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট। নাগরিক বার্তা.কম
চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে পারিবারিক কলোহের জের ধরে স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৫) বিষ পান করিয়ে, কন্যা মিথিলা ফারজানা (৫) পুত্র সিয়াম (১) কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী মো. মাইনুদ্দিন (৩০) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

রোববার (১৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ওই ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের সরদার বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মাইনুদ্দিন সরদার বাড়ীর মিয়াজী সরদারের ছেলে। সে চট্টগ্রাম একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরীতে কাজ করতেন।

নিহত মাইনুদ্দিনের মা ফিরোজা বেগম জানান, গত কয়েকদিন আগে মাইনুদ্দিনের স্ত্রীর কানের ধুল হারিয়ে যায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলোহ দেখা দেয়। এরপরে মাইনুদ্দিন চট্টগ্রাম তার কর্মস্থলে চলে যায়। তার স্ত্রীকে তার পিতা এসে মতলব দক্ষিণ উপজেলার করবন্দ গ্রামে পিত্রালয়ে নিয়ে যায়। স্ত্রী কেন শ^শুর বাড়ীতে চলেগেছে এ নিয়েও মাইনুদ্দিন ও স্ত্রীর সাথে ফোনে কথা কাটকাটি হয়।

মাইনুদ্দিনের বড় ভাই কালাম সরদার জানান, শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম থেকে বাড়ীতে আসে এবং শ^শুর বাড়ীতি গিয়ে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। শ^শুর বাড়ীতেও স্ত্রী ও শ^শুর পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটি হয় হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণের গহনা নিয়ে।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে মাইনুদ্দিনের আরেক বড় ভাই জসিম উদ্দিন মালয়েশিয়া প্রবাসী মালয়েশিয়া থেকে তার মা ফিরোজা বেগমকে ফোন দেয়। মাকে বলে মাঈনুদ্দিন তার ফেইসবুকে সে মরে যাবে তার কবর ঠিক করার জন্য এবং স্ত্রী, সন্তানদের ভিডিও করে ফেইসবুকে আপলোড দেয়। জসিম মা ও ভাইকে তার ঘরে গিয়ে দেখার জন্য বলে।

পরে মা ফিরোজা বেগম ও ভাই কালাম সরদার ঘরে গিয়ে দরজা খুলে প্রথমে দুই শিশুকে লেপের নিচে মৃত পড়ে থাকতে দেখেন এবং মাইনুদ্দিনকে ঘরের আড়ার সাথে ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। তারা চিকৎকার করলে বাড়ির লোকজন আসে এবং পরে খোঁজাখুঁজি করে বাড়ির পুকুরে খুঁটির মধ্যে ফাতেমার মরদেহ বাঁধা অবস্থায় দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে ফাতেমাকে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার পর চাঁদপুরে পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিম উদ্দিন জানান, মরদেহগুলোর সুরতহাল করা হয়েছে এবং উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ মুহুর্তে হত্যার কারণ বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে।

এমএমএ/