চাঁদপুরের টিআই নাছিরসহ গোপনে মোটর সাইকেল বিক্রির হোতা টিপু আটক

ছবি: সংগ্রহীত।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট। নাগরিক বার্তা.কম
চাঁদপুর: কাগজপত্র না থাকার কারণে যে মোটর সাইকেলগুলো আটক হয়। ট্রাফিক পুলিশের টিআই নাছিরের সহযোগিতায় ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে আটককৃত মোটর সাইকেল গোপনে অবৈধভাবে সেই মোটর সাইকেলগুলো বিক্রি করে বহু অপকর্মের হোতা ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ের দালাল টিআই নাছিরের সোর্স পালপাড়ার ভাড়াটিয়া জয়নাল আবেদীনের ছেলে ফরিদ আবেদ টিপু। কাগজপত্রহীন জব্দ ও আটককৃত মোটর সাইকেল বিক্রির ব্যবস্থা নেয় এই দালাল টিপু। আর এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে টিআই নাছির। এরকমই একটি ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম বড়হাতিয়া লোহাগড়া এলাকার আয়াজ মাহমুদ ইমনের সাথে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আয়াজ মাহমুদ ইমন চাঁদপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিক্রয় ডট কম এর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ের জব্দ ও আটককৃত মোটর সাইকেলের ছবি দেয় দালাল টিপু। সেই সুবাদে যোগাযোগ টিপুর সাথে। যোগাযোগকালী দালাল টিপু জানায় মোটর সাইকেলগুলো কাগজপত্র সম্পন্ন এবং কিছু ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে টিআই নাছির ও দালাল টিপুর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে ২টি গাড়ি কিনে। মোটর সাইকেলগুলোর দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় পরবর্তীতে আয়াজ মাহমুদ ইমনের বন্ধুরার মোটর সাইকেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। সেমতে টিপুর সাথে যোগাযোগ করলে সে ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ের আটককৃত মোটর সাইকেলের ছবি তুলে পাঠায়।

এরপর আয়াজ মোটর সাইকেলগুলো দেখতে সরাসরি চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে এসে ৬টি মোটর সাইকেল পছন্দ করে। দালাল টিপু জানায়, মোটর সাইকেলগুলোর স্মার্ট কার্ড, ট্যাক্স টোকেন, ডিজিটাল নাম্বার প্লেট এবং সমস্ত লিগ্যাল কাগজপত্র চাঁদপুর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নাছির উদ্দিনের মাধ্যমে ব্যবস্থা করে দিবে এবং সবকিছু সম্পন্ন করে ৬টি গাড়ি ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা আয়াজ এর কাছ থেকে গ্রহণ করে দালাল টিপু। কিছুদিন পরই আয়াজ জানতে পারে দালাল টিপু ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমেই টিআই নাছিরসহ গাড়ি বিক্রি করে। পূর্বের ক্রয়কৃত মোটর সাইকেলগুলোর কাগজপত্রও ভুয়া এবং বৈধ নয়। পরবর্তী দালাল টিপুর সাথে যোগাযোগ করে মোটর সাইকেল ক্রয় না করে টাকাগুলো ফেরত চাইলে দালাল টিপু ও টিআই নাছির সময়ক্ষেপন করতে থাকে।
এরই ধারাবাহিতকতায় বুধবার ( ১৯ ডিসেম্বর) স্বশরিরে উপস্থিত হয়ে আয়াজ পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশের এসআই মামুন ছায়াবানী মোড় থেকে দালাল টিপুকে আটক করে এবং দালাল টিপু ঘটনার সতত্যা স্বিকার করে।
ভুক্তভোগী আয়াজ মাহমুদ জানায়, দালাল টিপু ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে কাগজপত্রহীন মোটর সাইকেলগুলো বিক্রয় ডট কমের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে টিআই নাছিরসহ বিক্রি করে। আমার সাথেও একই ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, দালাল টিপু দীর্ঘদিন থেকেই ট্রাফিক পুলিশের টিআই নাছিরসহ আরো দু’ একজনের সাথে যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রেখে কাগজপত্র ছাড়াই আটক ও জব্দকৃত মোটর সাইকেল ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিক্রি করে। শুধু তাই নয়, টিআই নাছিরসহ যার গাড়ি আটক করে তার কাছেই আমার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গাড়ি ফেরত দেয়। দালাল টিপু মোটর সাইকেল ডুপ্লিকেট কাগজপত্র তৈরি সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। সে বিভিন্ন লোকজনকে সরকারি ও বেসরকারি চাকুরী নেয়ার কথা বলেও মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে টিআই নাছির জানায়, কে বা কাহারা ষড়যন্ত্রপূর্বক আমাকে ফাঁসানোর জন্য এই অভিযোগ দায়ের করেছে। হয়তো আমি আয়াজ নামের ওই ব্যক্তির গাড়ির আটক করেছিলাম কাগজপত্র না থাকার কারণে। সে কারণেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়ে থাকতে পারে।

তবুও সাধারণ মানুষ বলে যাহা ঘটে তাহা কিছু হলেও রটে। চাঁদপুরের মোটর সাইকেল মালিকরা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর টিআই নাছির ও দালাল টিপুর প্রতি বহুদিন ধরেই ক্ষুব্ধ। মোটর সাইকেলের কাগজপত্র না থাকলে তা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা না করে গাড়ি আটকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গাড়ি ছাড়ে। আবার টাকা দিতে অপারগ হলে আরেকজনের কাছে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অন্যজনের কাছে বিক্রি করে। এ হয়রানির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি ভুক্তভোগীদের।
এমএমএ/