গ্যাস মূল্য বৃদ্ধি: জনগনের কি লাভ?

গ্যাসের দাম আবারো বাড়ল। আজ থেকে দুই বার্নার চুলা ৯৭৫ টাকা। আর একবার্নার চুলা ৯২৫ টাকা। এবারের বাজেটে সব ধরনের গ্যাসের দাম গড়ে ১০৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

দেশে গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ছ’বার। ‘‘গ্যাসের দাম বাড়ালে স্বাভাবিক ভাবেই পরিবহণ, বিদ্যুৎ, পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সব খাতে ব্যয় বাড়বে। এই বাড়তি ব্যয়ের প্রতিটি অর্থ ব্যবসায়ীরা জনগণের কাছ থেকেই পণ্য ও সেবার দাম বাড়িয়ে আদায় করবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির খেসারত সাধারণ মানুষকেই জীবন দিয়ে  দিতে হবে।

৮০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আর লাভবান হবেন মাত্র ৫ থেকে ১০ ভাগ মানুষ। এখন একটা প্রশ্ন গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কি যৌক্তিতা আছে? বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং ওয়াসার   বছর বছর মূল্য বৃদ্ধি হয়। যা বহন করা মধ্যবৃত্তের ক্ষমতার বাইরে। আর দরিদ্র শ্রেনীর কথা বাদই দেয়া হল।

কেউ কোন প্রতিবাদ করেনা। সবাই নিশ্চুপ হয়ে মেনে নেয়ার অভিনয় করছে। শুধু তাই নয় ব্যাংকের সীমিত সুদের উপর উৎস কর বেড়েছে। আর সব জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে বেঁচে থাকাই মুশকিল।

ঘুষ, দূর্নীতি, বেআইনি প্রক্রিয়া, সিস্টেম লসের দিকে যথাযথ নজর না দিয়ে প্রতিবছর রেলের টিকেট, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বেড়েই চলেছে। এটি কোন সিস্টেম? নাকি মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার গুনাহ্গারি।

আরো বড় কথা সরকারি সংস্থার অর্থায়ন করতেই আমাদের এ মাশূল গুনতে হবে অথচ বেতন আর সুবিধা বাড়বে সরকারী লোকের। এদিকে পাশের দেশ ভারতে গ্যাসের দাম কমেছে ১০০ টাকা।

কি বিচিত্র এই দেশ। এ দেশের বুদ্ধিজীবিরা ঘুমিয়ে আছেন বলে মনে হয়। কারণ এইসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ কেউ করেনা। শুধূ টকশো তে এসে  টেলিভিশন গরম করেন।

আবার অনেকে গ্যাস মূল্যবৃদ্ধি কে সমর্থন দিচ্ছেন। তাদের মনোভাবও স্পষ্ট নয়। অবশ্য একশ্রেনী মানুষের হাতে এখন অনেক টাকা। তারা কয়েক বছরে হাজারো কোটি টাকার মালিক হয়েছে।

মনে হয় তারা আলাদ্বীনের আশ্চর্য প্রদীপ পেয়েছে। কিন্তু আমাদের সাধারণ মানুষের হাত প্রদীপ শূন্য। কিভাবে বেঁচে থাকব আমরা?

তানিয়া রাত্রি