গনতন্ত্র, পুলিশতন্ত্র নাকি গুন্ডাতন্ত্র?

দেশে এখন খুব সম্ভবত পুলিশি শাসন ব্যবস্থা চলছে। গত এক বছর ধরে পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কর্মকান্ডে আমরা প্রশ্ন করার ভাষা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছি। আমরা বুঝতে পারছিনা দেশে আসলে কি চলছে ? গনতন্ত্র, না পুলিশের গুন্ডাতন্ত্র।

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের কিছু কর্মকান্ড আগে তুলে ধরি, সোহেল রানা নামে পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট অধিক মামলা দেখানোর জন্য নিরীহ জনগন কে হয়রানী করছে। শুধু শুধু তাদের নামে মামলা দিয়েছে। এক উবার চালক কে যখন রাস্তায় হয়রানি করছিল তখন বিষয়টি এক সংবাদকর্মীর দৃষ্টিগোচরে আসে । সে তখন বিষয়টি নিয়ে সার্ভে করলে বের হয়ে আসে অজানা তথ্য । ওই সার্জেন্ট পুরষ্কার পাওয়ার জন্য নিরীহ জনসাধারনের নামে সাজান ইস্যু তৈরী করে সর্বাধিক মামলা দিয়েছে। শ্যামপুর থানার  এসআই  মাহবুব আলম  গতবছর দক্ষিন যাত্রাবাড়ির কবরস্থান রোডের  এক মহিলাকে মাদক বিক্রেতা সাজিয়ে মামলা দেয়। একলক্ষ টাকা ঘুষ না দেয়ায় তাকে মাদকের মামলা দেয়া হয়। জামিনে এসে ওই মহিলার স্বামী  সাত্তার  এস আই এর  বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থী হয়ে পুলিশের সিকি্‌উরিটি  সেলে একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ দায়েরের পর ওই  অফিসার তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি তুলে নেয়ার জন্য  অনবরত তাকে হুমকি দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেন সাত্তার।  এছাড়া একই অফিসারের বিরুদ্ধে সিকিউরিটি সেলে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ মিয়া এবং ওই  একই থানার এস আই মাহবুবুল হাসান ধর্ষনের মত একটি জঘন্যতম অপরাধ করেছে। তারা এক তালাকপ্রাপ্তা নারী কে ধর্ষন করে। মারধর করে পতিতা সাজিয়ে আদালতে পাঠায়। ঘুষের দাবী করে ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখায়। সাতক্ষীরায় এক বাড়ীতে ডাকাতি হয়েছে পুলিশ কে আসতে বললে জবাব আসে ‘পুলিশ তোর বাপের চাকর নাকি?’ গনতান্ত্রিক পুলিশের কি ভাষা।

এছাড়াও আছে পুলিশ কর্তৃক নিরাপরাধ মানুষের হয়রানী। রাস্তাঘাটে যানবাহন নিয়ে বের হলে চালকরা ভয়ে থাকে কখন কেস খাবে। আবার নির্ভেজাল কোন আন্দোলন করতে গেলেও পুলিশ তাদের কে পেটাবে। এটা এ দেশের একটি ট্রাডিশনে পরিনত হয়েছে কেউ প্রতিবাদ সমাবেশ করলেই পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে।এমন কি ছোট বাচ্চাদের নির্ভেযাল আন্দোলন এর সময়ও পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করেছে। আবার পুলিশের প্রটেকশনে সমাজের অপরাধীরা আরামে বসবাস করছে।

এক জনপ্রিয় সুন্দরী নায়িকার গাছ উপড়ে ফেলেছে কেউ তার নালিশে পুলিশ হাজির। আর সাধারন ছাত্রী নুসরাতের চোখে নুন ডলে দিয়েছে কেউ পুলিশ তার নালিশ নিতেই নারাজ। পুলিশের উর্দি পরা লোকগুলোকে এখন আর  মানুষ মনে হয়না, মনে হয় পোশাক পরা মাস্তান। পুলিশের পাশে লাঠি নিয়ে কারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। কাদের কথায় পুলিশ ওঠে বসে তাও আমরা জানি। । কিন্তু কেউ সাহস করে কিছু বলবেনা। দেশে অসুস্থ শাসন ব্যবস্থা বিরাজ করছে যার কারণে পুলিশ সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছে। জনগন ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনা। পুলিশ প্রটেকশনে রাতের বেলাতেই ব্যালট বাক্সে সিল মারা হয়। প্রশাসনের সব কিছু নিয়ন্ত্রন করছে পুলিশ। এদের থেকে দেশকে মুক্ত করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। এরা থাকলে আমরা শান্তিতে থাকতে পারবনা। সম্মান নিয়ে বাঁচা তো দূরের কথা, বেঁচেও থাকতে পারবো না। এই পুলিশরুপি গুন্ডাদের সরকারের বড় বড় হর্তাকর্তাদের সাথে ওঠাবসা, আমরা তা জানলেও কিছু করতে পারিনা।

এক ভয়াবহ সময় পার করছি আমরা । কেন গনতান্ত্রিক দেশের সাাধারন নাগরিকরা পুলিশের ভয়ে অস্থির থাকবে? আমরা এই গুন্ডাতন্ত্রের মধ্যে বেঁচে থাকতে চাই না। আমরা পুলিশ গুন্ডা মুক্ত বাংলাদেশ চাই। যে দেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যে দেশের জন্য লাখো শহীদ জীবন দিয়েছে; যাদের লাশও আমরা পাইনি। তারা আমাদের ঋণী রেখে গেছেন। তারা একটা দেশ রেখে গেছেন যেখানে সভ্যতা থাকবে। মানুষ মানবাধিকার ভোগ করবে। সেখানে গুন্ডাতন্ত্র থাকা মানে তাদেরকে অপমান করা।

এখন পুলিশ ভাইদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও লেখা নাই পুলিশ শাসক শ্রেনীর লাঠিয়াল হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। আবার পুলিশের পাশে থেকে ক্ষমতাবান অপরাধীরা বেআইনিভাবে নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ করবে। আর পুলিশ এদের সহযোগী হবে। এটা মানে পুলিশকে অপমান করা এবং নিজেরা নিজেদের ধ্বংস করা।

প্রিয় পুলিশ ভাইরা ,আপনারা কোন অপরাধ করার আগে কিংবা অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়ার আগে একবার একাত্তরের দিকে ফিরে তাকান । ২৫ শে মার্চ এর কালোরাত্রিতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী প্রথম আক্রমন করেছিল রাজার বাগ পুলিশলাইন্স এর উপর। পুলিশের স্মৃতিসৌধে শহীদ পুলিশদের নাম লেখা আছে। দয়া করে তাদের কে অপমান করবেন না।