খালেদা জিয়ার কারাবন্দী ৫২ সপ্তাহ

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৫ বছরের কারাদন্ডের সাজা নিয়ে কারাগারে যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে মুক্তির ঘোষণা ছিল বিএনপির। তবে ৫২ সপ্তাহ চলে গেলেও এখনো চার দেয়ালে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী। শিগগির মুক্তির আভাসও নেই।

এই এক বছরে বিএনপিপ্রধানের বিরুদ্ধে থাকা ৩৫টি মামলার একটিতে জামিন হলে অন্য মামলা সামনে চলে এসেছে। পরে দন্ডের বিরুদ্ধে আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে। তাতে সাজা কমার বদলে বেড়ে হয়েছে ১০ বছর। পাশাপাশি আরও এক মামলায় সাজা হয়েছে সাত বছর। আরও অন্তত তিনটি দুর্নীতির মামলায় বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

এর মধ্যে গত ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের কারাদন্ড হয়েছে বিএনপির নেত্রীর। পরদিন আবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দন্ড বেড়ে দ্বিগুণ হয়। আর এ দুই রায়ের কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি বিএনপির নেত্রী।

ক্ষমতায় থাকাকালে নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া দুর্নীতির মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে।

দলীয় প্রধানের দন্ডের পর ‘তার অভিপ্রায়ে’ নমনীয় কর্মসূচি দেওয়া বিএনপি এখন তার কোনো ধরনের কর্মসূচিতেও নেই এ বিষয়ে। বরং দুই মামলায় ১৭ বছরের দ- পাওয়া বিএনপির চেয়ারপারসনের বন্দিজীবন আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, এমন আশঙ্কা করছে খোদ তার দল।

২০১৮ সালের আজকের দিনটি ছিল টান টান উত্তেজনায় ভরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায় শুনতে খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া নিয়ে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছিল। নেত্রীর কিছু হলে বিএনপির দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি আর পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে দেশবাসীর মনে ছিল নানা ভয়। তবে রায়ে পাঁচ বছরের কারাদ- নিয়ে বিএনপির নেত্রী কারাগারে গেলে তার দল নমনীয় কর্মসূচি দেয়।

দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য শুরু থেকে নানা কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। আইনিভাবেও তার মুক্তির জন্য লড়াই করেন আইনজীবীরা। তবে সাফল্য আসেনি। আর অনেকটাই আশা হারিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ মনে করেন, সরকারের ইচ্ছা না থাকলে মুক্তি পাবেন না খালেদা জিয়া। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রভাবের কারণে এক বছরেও বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয়নি। আমরা মনে করি সরকার না চাইলে তার মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। এ জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। আমরা সরকারকে বাধ্য করতে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কারাবন্দীর বছরপূর্তির দিন আজ প্রতিবাদ সমাবেশ করবে বিএনপি। এর বাইরে কোনো কর্মসূচি নেই দলটির।

খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলায় আবার গ্রেপ্তার হন।

এক বছরের সঙ্গী ফাতেমা: কারাগারে নেওয়ার পর পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সিনিয়র কারা তত্ত্ববাবধায়কের কক্ষে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছিল। প্রথম দিনে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করেন। পরে ১১ ফেব্রুয়ারি ডিভিশন পাওয়ার পর সেখান থেকে খালেদা জিয়াকে বন্দীদের সন্তানদের রাখার স্থান ‘ডে কেয়ার সেন্টারে’ নেওয়া হয়।

শুরু থেকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গৃহপরিচারিকা ফাতেমা আছেন। পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারেই তার খাবার রান্না করা হয়। ওই খাবার চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয়।

কারাগারে দেখা করতে যাওয়া একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কারাগারে বেশির ভাগ সময় চুপচাপ থাকেন খালেদা জিয়া। সময় কাটে বই ও পত্রিকা পড়ে। এ ছাড়া গৃহকর্মী ফাতেমাসহ কারাগারে দায়িত্বরত নারী কর্মীদের সঙ্গেও মাঝে মাঝে আলাপচারিতা করেন।

এই এক বছরে আদালত ছাড়া কারাগারের বাইরে দুবার এসেছেন খালেদা জিয়া। গত ৭ এপ্রিল হাঁটু ও হাতের এক্স-রে করাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয় বিএনপির নেত্রীকে। যদিও বিএনপির দাবি ছিল ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেওয়া হোক। পরে ওই দিনই তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর গত ৬ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে খালেদা জিয়াকে আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালেই সাব জেল ঘোষণা করে চিকিৎসা করানো হয়। এক মাস দুই দিন পরে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল জানিয়ে খালেদা জিয়াকে আবারও কারাগারে নেওয়া হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিন আসনে খালেদা জিয়ার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়। তবে তার মনোনয়ন অবৈধ বলে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে গিয়েও ফল পায়নি বিএনপি।

এমএমএ/