খবির হত্যা মামলার আসামীদের ফাঁসির দাবীতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ছবি: নাগরিক বার্তা.কম

মতলব : মতলব দক্ষিণ উপজেলা যুবলীগের সমাজসেবা সম্পাদক ও চাঁদপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এয়াস ভাইস মার্শাল এম রফিকুল ইসলামের পিএস মোঃ খবির হোসেনের হত্যা মামলার আসামীদের ফাঁসির দাবীতে পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

 সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নওগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে মরহুম মোঃ খবির হোসেনর পরিবার এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মরহুম মোঃ খবির হোসেনের স্ত্রী মোসাম্মৎ ফাতেমা খবির।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, মামলার বাদী মরহুম মোঃ খবির হোসেনের বড় ভাই মোঃ মোশারফ হোসেন, শিশু কন্যা মোসাম্মৎ ফাহমিদা হোসেন, ফারহানা হোসেন তাহা, এলাকাবাসীর পক্ষে লিটন মুন্সী, বিল্লাল হোসেন, শাহ আলম মাস্টার, তাফাজ্জল হোসেন, আব্দুল মান্নান খান, মিলন প্রধান, বদিউজ্জামান, মোঃ বজলুর রশিদ।

সংবাদ সম্মেললে লিখিত বক্তব্যে মরহুম মোঃ খবির হোসেনের স্ত্রী মোসাম্মৎ ফাতেমা খবির জানান, আমি উপাদী উত্তর ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। আমার স্বামী মোঃ খবির হোসেন প্রধানিয়া ২০১২ সালের আগষ্ট মাসের ২৯ তারিখ রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে গ্রামের বাড়ি থেকে মতলব পৌর এলাকায় নিজ বাসায় মোটর সাইকেল যোগে আসার সময় ১০/১২ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। প্রথমে তাকে মতলব উপজেলা হাসপাতাল, পরবর্তীতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে সদরের চিকিৎসকরা। সেখান থেকে আবার গ্রীন লাইফ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে ৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মারা যায়।

ঘটনার সময় আমাদের পরিবারের লোকজন আমার স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়ায় এবং আমি ৭ মাসের অন্তসত্ত্বা থাকায় মামলা করতে দেরি হয়। পরবর্তীতে আমার বাসুর বাদী হয়ে ৩০ আগষ্ট ২০১২ তারিখে মতলব দক্ষিণ থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও অজ্ঞাত কিছু দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-০৬, ৩০.০৮.২০১২)। মামলা দায়ের করার দিনেও স্বামী চিকিৎসাধীন ছিলো।

উল্লেখিত মামলার আসামী সাগর দেওয়ান (২৮), বাশার (২০), জুয়েল (২৩), নজরুল (২২), মেহেদী দেওয়ান (২৪), সাগর (২১), হেলাল (২০), শোহরাব (২৬), সোহেল সরকার (২৫) কে এজহারে নাম দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে মামলার প্রতিবেদনে আরো দুইজন আসামীর নাম জড়িত থাকায় যোগ করেন। তারা হচ্ছেন- দুলাল মিয়া ওরফে দুলাল দেওয়ান (৪৯) ও মাইনুল কবির হিমেল (২৪)। এই ঘটনায় মতলব থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মিজানুর রহমান পাটওয়ারী চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ আমলী আদালতে স্বাক্ষী প্রদান করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলার সকল পক্রিয়া শেষ না হওয়া বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে আছে। আমার স্বামী খবির হোসেন প্রধানিয়া ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা যুবলীগের সমাজসেবক সম্পাদক ছিলেন এবং ২০১১ সালে মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। চাঁদপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল এম রফিকুল ইসলাম এর পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজ দেখা শুনার কারণে তার সাথে দলীয় ও অন্যান্য লোকজনের সাথে শত্রুতাও সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে জেলা পরিষদ এর সম্পত্তির টাকা উত্তোলন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

মূলত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার স্বামীর উপর আক্রমন হয় এবং পরবর্তীতে সে মৃত্যুবরণ অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আমার স্বামী নিহত হওয়ার পর ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে হতার সাথে জড়িত মূল আসামীরা আড়াল হয়ে যায়। পরবর্তী নির্বাচনে আমাদের এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এমপি। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তন হয়। এতে করেও মামলাটির অগ্রগতি অনেকটা স্থগিত হয়ে পড়ে। মামলার শুরুতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করলেও পরবর্তীতে তা আর পাওয়া যায়নি।

হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক এমপি এম রফিকুল ইসলাম এর ভাই মোঃ তওফিকুল ইসলাম দেওয়ানকে সন্দেহ করি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার নামটি মামলায় সংযুক্ত হয়নি। তওফিকুল ইসলাম দেওয়ানসহ তার সহযোগিতা বর্তমানেও মামলাটি যেন সঠিকভাবে বিচার না হয় সেই অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। যাদেরকে আসামী করা হয়েছে, তাদেরকেও তারা অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে উচ্চ আদালতে থেকে জামিন করিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে আগত উপজেলা নির্বাচনে ওনি প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন। আর যদি কোনো কারণে ওনি মনোনয়ন পেয়ে যান তাহলে আমাদের পরিবারের জন্য আরও বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি মামলার গতি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা ও ৪ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী। আমি একজন হতভাগিনী হিসেবে আপনার কাছে অনুরোধ, স্বামীর মৃত্যুরপর আমি নিজে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে মামলাটি পরিচালনা করে আসছি। খবির নিহত হওয়ার ৩ মাস পর আমার দ্বিতীয় কন্যা সন্তান জন্ম হয়। এর আগেও একটি কন্যা সন্তান ছিলো। আমি বর্তমানে ঢাকা আইসিডিডিআরবি’তে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকুরী করে কোনো রকম সংসার চালাচ্ছি। বড় মেয়েটি বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছে। মামলাটি অগ্রগতি না হওয়ার কারণে আমার মানসিকভাবে খুবই নাজুক অবস্থায় আছি। লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা মনে পড়লে আমরা এখনো অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমি ও আমার কন্যারা এখনো তাদের পিতার জন্য কাঁদে।

নাবা/এমএমএ/