কেউই মানছে না শিশু শ্রম আইন

অল্প বয়সে সংগ্রামী জীবন বেছে নেয়া প্রতিটি শিশুর রয়েছে আলাদা গল্প। কারো কর্মক্ষম বাবা-মা থাকলেও বাড়তি আয়ের লোভের বলি হচ্ছে শৈশব। এছাড়া রয়েছে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে শিশুর একাকীত্ব। আবার পারিবারিক অস্বচ্ছলতায় অনেকেই এই বয়সে বাধ্য হচ্ছে সংসারের ঘানি টানতে।

বর্তমানে দেশে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ হলেও এদের অর্ধেকেরও বেশি জড়িত নানা ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন পারিবারিক আর্থিক অনটন, অশিক্ষা ও অসচেতনতাসহ নানা কারণ এর জন্য দায়ী হলেও যুগোপযোগী নীতিমালার অভাবেই এই সংখ্যা কমানো যাচ্ছে না।

শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো মনে করে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঠিক নজরদারীর অভাবেই ঝুঁকির মুখে শিশুর ভবিষ্যৎ।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন সিনিয়র প্রকল্প পরিচালক রাজিয়া শাহীন বলেন, পরিবারদের বুঝতে হবে, যে আজকে যে শিশু আয় করছে ভবিষ্যতে তার অবস্থা আরও খারাপ হবে যা ভোগ করবে রাষ্ট্র ও সমাজ।

শিশুশ্রমিকের সংখ্যা হ্রাসে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি শিশু বিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনেরও পরামর্শ তাদের।

এএসডি ব্যবস্থাপক বলেন, শিশুদের জন্য কোণ আলাদা মন্ত্রণালয় নেই। কোন অধিদপ্তর নেই। এখানে একটা গ্যাপ থেকে যায়।

আজকের শিশুকে আগামীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুশ্রম বিষয়ক বিদ্যমান নীতিমালার আধুনিকায়নের পাশাপাশি শিশু বিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের পরামর্শ তাদের।

বয়স সবে এগারো পেরিয়ে বারো। রঙিন মলাটের বই আর কলম হাতে স্কুলে যাওয়ার এই বয়সেই বিবর্ণ হয়েছে ইমরানের জীবন। ভারিসব যন্ত্রের সাথে নিত্য উঠাবসা তার। রাজধানীর পোস্তগোলার একই কারখানায় কাজ করেন বাবাও। পরিবারে খুব একটা আর্থিক অনটন না থাকলেও পড়ালেখার থেকে সন্তানকে যেন কাজ শেখাতেই বেশি আগ্রহী।

বাবা বলেন, দুইদিন আগে পিছে হলেও কাজ করে খেতে হবে। এজন্য কাজ শিখাচ্ছি যেন ভবিষ্যতেও কিছু করে খেতে পারে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সব শ্রেণির শিশুশ্রম বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও পরিবহন সেক্টরসহ ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা।

শিশুশ্রম নিরসনে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অসচ্ছল পরিবারের শিশুর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতও জরুরি।

নাবা/সেন্ট্রাল ডেস্ক/কেএইচ/