এসিআই’র কৃষি পরামর্শক অ্যাপ ‘ফসলি’

বাংলাদেশের কৃষিখাতের সবচেয়ে বড় সমন্বিত প্রতিষ্ঠান এসিআই অ্যাগ্রিবিজনেস, বাংলাদেশের আইটি ও আইটিইএস পণ্য এবং সেবাসমূহ প্রদর্শনের বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম ‘১৫তম বেসিস সফটওয়্যার এক্সপোত ২০১৯’এ অংশ নিয়েছে। এতে এসিআই অ্যাগ্রিবিজনেস কৃষিখাতে মাঠের ফসলের জন্য পরামর্শক অ্যাপ ‘ফসলি’ প্রদর্শন করে। ‘ফসলি’অ্যাপটি দিয়ে কৃষকরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ধানের কীটপতঙ্গ ও রোগবালাই সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য, সপ্তাহভিত্তিক চাষাবাদের সম্পূর্ণ প্যাকেজের বিষয়ে জানতে পারবেন।

গত বছরের শুরুতে আমন ধানের মৌসুমে ‘ফসলি’অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে উন্মোচন হয়। ১ লাখেরও বেশি সদস্য ‘ফসলি’ অ্যাপের পরামর্শক্রমে আশাব্যাঞ্জক ফসলের প্রত্যাশা নিয়ে বোরো ধান চাষাবাদ করছেন। শীতকালীন সবজী উল্লেখযোগ্য ভাবে উৎপাদনের জন্য চাষীরা ‘ফসলি’ ব্যবহার করেন। কৃষকও বুঝতে পারেন।

এই এক্সপোতে ‘স্মার্ট সলিউশন্স, স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় একজন প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নিয়ে এসিআই লিমিটেডের এসিআই অ্যাগ্রিবিজনেসের ডিজিটাল স্ট্র্যাটিজি জেনারেল ম্যানেজার শামিম মুরাদ বলেন, “ফসিল অ্যাপের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষিখাত সংশ্লিষ্টদের উপযুক্ত এবং কার্যকরি পরামর্শ প্রদান করা। কৃষক, সরকারি কর্মকর্তা, খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘ফসলি’-এর মাধ্যমে আমরা তাদের এই প্রয়োজনীয়তাকে পূরণের চেষ্টা করি”।

‘ফসলি’ অ্যাপটি তৈরিতে পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নেদারল্যান্ডস স্পেস অফিস এবং ডাচ ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান এসএনভি। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির দু’টি স্যাটেলাইট- সেনটিনেল-১ ও সেনটিনেল-২ থেকে ছবি বিশ্লেষণ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং একটি প্রপ্রাইটারি কীটপতঙ্গ ও রোগবালাই পূর্বাভাসের মডেল ধানের আগাম ঝুঁকি বুঝতে ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে কাজ করে। অ্যাপের পরামর্শ ও করণীয়গুলো একটি সহজ ইউজার ইন্টারফেসে প্রদান করা হয়, যাতে একজন পঞ্চম গ্রেড শিক্ষিত
নীতি-নির্ধারক, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিবৃন্দ, একাডেমিক এবং উন্নয়ন অংশীদারগণ গুরুত্বপূর্ণ এই নলেজ শেয়ারিং সেশনে অংশগ্রহণ করেন।

কৃষিখাতের পাশাপাশি পশুসম্পদ ও মৎস্য খাতে যেসব কৌশল ও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে সেসব বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় এই প্যানেল আলোচনায়। বেসিস আয়োজিত এই কর্মশালায় বাংলাদেশের অর্থনীতির মূখ্য অংশ কৃষিখাত এবং এই খাতে ক্রমবর্ধমান তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারকে অনুপ্রাণিত করা হয়। মূলত অন্যান্য দেশের সাথে আরও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি, নির্বাচিত দেশগুলোর বাণিজ্য প্রতিনিধিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে এবং বাংলাদেশের আইসিটি’র বিশাল সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে এই এক্সপোটির আয়োজন করা হয়। তিন দিনের আয়োজনে আইসিটি কোম্পানি, ব্যক্তিত্ব, মূখ্য নীতিনির্ধারক, ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য আইসিটি স্টেকহোল্ডারদের সমাগম ঘটে।

নাবা/ডেস্ক/রাজু