একাউন্ট নেই অথচ চেক জালিয়াতির ১০ মামলার আসামি!

চট্টগ্রাম আদালতে নিরীহ এক শ্রমিক পরিবারের বিরুদ্ধে ১০টি চেক প্রতারণা মামলা হয়েছে। যার ৮টিতেই নিজের পক্ষে রায় নেয় নিয়েছে এক প্রতারক। অথচ চেক তো দূরের কথা, পরিবারটির কারো কোনো ব্যাংক একাউন্টই নেই।

কারো নামে কোনো ব্যাংক হিসাব না থাবলেও ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা চেক ডিজ অনারের ১০টি মামলায় ৮টিতে সাজাপ্রাপ্ত এ পরিবারের চার সদস্য।

মোরশেদ আলম নামে এক লোক ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে, অন্যের চেক জালিয়াতি করে তাদের ফাঁসায়। পরিবারটি এখন অর্থাভাবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারছে না।

রেজিয়া বেগম বিগত দেড় বছরের অমানবিক কষ্টের কথা বণর্না করতেই অশ্রুসজল হন। চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক শ্রমিক তার স্বামী বাকপ্রতিবন্ধী। চার সন্তানের অভাবের সংসার।

পূর্ব শত্রুতার জেরে তিন সন্তানসহ রেজিয়াকে একটি টেক্সটাইল মিলের মালিক দেখিয়ে চেক প্রতারণার মামলা করে তাদেরই নিকট আত্মীয় মোরশেদ আলম।

বিনা অপরাধে জেলখাটাসহ চরম কষ্ট সইতে হয় এ শ্রমিক পরিবারকে। জেলে থাকার কারণে মারা যায় রেজিয়ার মেয়ে সাবরিনার গর্ভের সন্তানও।

এ হয়রানির প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা একটি মামলা দায়ের করলে তা পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। পরে এ সংস্থার তদন্তেই বেরিয়ে আসে অভিনব জালিয়াতির পুরো চিত্র।

আদালতের রেজিষ্ট্রার বইয়ের পৃষ্টা ছিড়ে ফেলার বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে। তবে মোরশেদকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।

পিবিআইয়ের রিপোর্টের পর গেলো ৭ এপ্রিল মোরশেদকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন বিচারক। এরপরই ধরা পড়ে এই প্রতারক।

আদালতে জাল নথিপত্র উপস্থাপনের কারণে খোদ বিচারকই মামলা করেন তার বিরুদ্ধে।

এটাকে অবিশ্বাস্য জালিয়াতি বলছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।
নাবা/সেন্ট্রাল ডেস্ক/কেএইচ/