ঋতু পরিবর্তনে শিশুদের জন্য সতর্কতা

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে । শীতের শেষ সময়ে টানা বৃষ্টিতে আবহাওয়ার ঠাণ্ডার অনুভূত থাকলেও হুট করে তাপমাত্রা বেড়েছে। তাপমাত্রা যত তারচেয়ে বেশি তাপ অনুভূত হচ্ছে। দিনে বেশ গরম অনুভুতি হলেও শেষ রাতে কিছুটা ঠান্ডা অনুভব করা যায় ।

এর কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কংক্রিটের নগরী, শুষ্ক আবহাওয়া এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকায় দিনে বেশি গরম অনুভূত হয়। এদিকে হঠাৎ করে গরম বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা লক্ষ করা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ঋত  পরিবর্তনের সময় এমনিতেই বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সেখানে ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা থেকে গরমের দিকে গেলে শিশুদের ভোগান্তি কম হয়। হঠাৎ করে গরম চলে আসায় সর্দিজ্বরের রোগী তুলনামূলক বেশি দেখা য়ায়।

আবহাওয়া অফিস বলছে, শুক্রবার (১৫ মার্চ) ঢাকায় বেশ গরম পড়বে। ঢাকায় এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হবে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কিছু বেশি। তবে বৃষ্টির দেখা না মেলায় অনুভূত হবে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। আপাতদৃষ্টিতে আকাশ মেঘলা মনে হলেও বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জানান, এবারের গরমের সময়টা এরকমই থাকবে। আজকে ঢাকার তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কিছু বেশি, তবে প্রায় ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি গরম অনুভূত হবে। যে স্থানে তাপমাত্রা পরিমাণ করা হয় তার থেকে অন্য স্থানের অবকাঠামো ও এলাকাগত পার্থক্য থাকায় এমনটা ঘটে। তবে কনক্রিটের নগরীতে এমনিতেই গরমটা বেশি অনুভূত হয়। আগামী দুইদিন কোনও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় ঘরের বাইরেটা অস্বস্তিকর থাকবে।’

এদিকে রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় সর্দিজ্বরে ভোগা শিশু রোগীদের আনাগোনা বেড়েছে। রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ।

গ্রিনলাইফ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক বিভাগের প্রধান শিশু বিশেষজ্ঞ কাজী রাকিবুল ইসলাম বলেন, দিনে একরকম তাপমাত্রা অনুভূত হয়, রাতে আরেকরকম। ফলে অভিভাবকরা সতর্ক থাকলেও খুব বেশি সামলাতে পারছেন না। কয়েকদিন যাবত বেশকিছু এমন রোগী দেখছি। এদের বেশিরভাগই একদম কয়েক মাসের শিশু যারা কিনা ঠাণ্ডা গরমের অনুভূতির কথাটা বলতে পারে না।’শীতের শেষ সময়ে টানা বৃষ্টিতে আবহাওয়ার ঠাণ্ডার আমেজ থাকলেও হুট করে তাপমাত্রা বেড়েছে। তবে তাপমাত্রা যত তারচেয়ে বেশি তাপ অনুভূত হচ্ছে।

নাবা/ফারুক/নয়ন/ডেস্ক