ইসরায়েলকে মোদির সমর্থন

ফিলিস্তিনি জাতিমুক্তির লড়াইয়ের প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার থেকে বের হয়ে এসে ইসরায়েলের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।  জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি সংগঠনের বিপক্ষে ভোট দিয়ে ইসরায়েলের ধন্যবাদও পেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

 মোদির গত সরকারের সময় জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল ভারত। তবে এবারই প্রথম ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ভোট দিলো দেশটি। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় ভারতের অবস্থান খুবই স্পষ্ট এবং ধারবাহিক।

দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই তাদের বৈদেশিক নীতি। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফিলিস্তিনের সমর্থন আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে ভারত। মোদির শাসনামলে এসে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো গাজার সহিংসতা প্রশ্নে ইসরায়েলবিরোধী এক ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল ভারত।

এবার প্রথমবারের মতো এক ফিলিস্তিনি সংগঠনের পর্যবেক্ষক মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ইসরায়েলি দাবির পক্ষে ভোট দিয়েছে  মোদি। ৬ জুন জাতিসংঘ ফোরামে লেবাননভিত্তিক ফিলিস্তিনি সংগঠন ‘শাহেদ’ এর পর্যবেক্ষক স্ট্যাটাসের কেড়ে নেওয়া প্রস্তাব দেয় ইসরায়েল।

   ‘শাহেদ’ মানবাধিকার নিয়ে কাজ করলেও ইসরায়েলের দাবি এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। ওই ভোটাভুটিতে ভারত ছাড়াও ইসরায়েলকে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডও সহ ২৮টি দেশ।

জাতিসংঘের ফোরামের ভোটাভুটিতে ইসরায়েরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় চীন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সুদান, আজারবাইজান, ইয়েমেন, সৌদি আরব, মিসর, বেলারুস, অ্যাঙ্গোলা, মরক্কো, এবং ভেনেজুয়েলা।

বিলটি পাস হয় ২৮-১৪ ভোটে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে সমর্থন দেওয়ায় মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলি  প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, জাতিসংঘে ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ নরেন্দ্র মোদি। ধন্যবাদ ভারতকে।  এছাড়া ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মায়া কাদোস এক টুইটে বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন শাহেদের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতিসংঘে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতকে ধন্যবাদ।’

ঐতিহাসিকভাবেই ভারত চায় আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র তৈরি হোক, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা ও রোডম্যাপ অনুযায়ী ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপদ ও স্বীকৃতি সীমান্তের পাশাপাশি অবস্থান করবে ফিলিস্তিনিরা।

২০১৫ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে গাজায় সহিংসতা নিয়ে ইসরায়েলবিরোধী এক ভোটাভুটি থেকে ভারত বিরত থাকার সময়ই একে ‘বিশেষ পদক্ষেপ’ বিবেচনা করা হচ্ছিলো। তখন থেকেই ধারণা করা হচ্ছিলো নেতানিয়াহুর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।সুত্র;এনডিটিভি।

নাবা/ডেস্ক/তানিয়া রাত্রি