ইউরোপের প্রভাবশালী মুসলিম রাজনীতিবিদরা

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে কয়েকজন মুসলমান উপরের সারিতে অবস্থান করে নিয়েছেন। নিজের যোগ্যতার বলে দখল করে আছেন উন্নত আসন। নিম্নে তাদের কয়েকজনের চিত্র তুলে ধরা হলো-

ব্রিটিশ রাজনীতির সম্ভ্রান্ত নারী
ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার প্রথম মুসলিম নারী সৈয়দা ওয়ারসি৷ ২০১০-২০১২ সালে তিনি কনজারভেটিভ পার্টির সহকারী প্রধান বা কো-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেন৷

ওয়ারসি কনজারভেটিভ পার্টিতে ইসলাম ভীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে’কে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন৷

 

ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম’ রাজনীতিবিদ
জার্মান রাজনীতিতে গ্রিন পার্টির সবচেয়ে পরিচিত মুখ চেম ও্যজদেমির৷ ২০০৮-২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি দলের সহকারী প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন৷

বাবা-মার জন্মভূমি তুরস্ক হলেও রেচেপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ানের অধীনে থাকা তুরস্ককে ইইউর সদস্যপদ দেয়ার বিরোধী তিনি৷

নিজেকে তিনি ‘ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম’ হিসেবে অভিহিত করেন৷ জার্মানিতে গাঁজার বৈধতা দেয়ার জন্যেও প্রচার চালিয়েছেন এই রাজনীতিবিদ৷

নেদারল্যান্ডসের জনপ্রিয় মেয়র
২০০৯ সালে ডাচ শহর রটারডামের মেয়র নির্বাচিত হন আহমেদ আবুতালেব।

তিনি দেশটির প্রথম অভিবাসী মেয়র৷ পশ্চিমা দেশগুলোতে আসার পর যেসব মুসলিম সেখানকার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে তিনি ভীষণ সরব৷

২০১৫ সালে বার্তা সংস্থা এএনপির জরিপে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাচ রাজনীতিবিদ নির্বাচিত হয়েছেন আবুতালেব৷

ব্রিটেনেও মুসলিম মেয়র
২০১৬ সাল থেকে লন্ডনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন সাদিক খান৷ এর আগে ২০০৫-২০১৬ পর্যন্ত তিনি লেবার পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন৷

ব্রেক্সিট গণভোটে ব্রিটেনের ইউরোপে থাকার পক্ষের প্রচারকারীদের মধ্যে ছিলেন সামনের সারিতে৷ তিনি সমকামী বিবাহেরও সমর্থক৷ ২০১৬ সালে ব্রিটিশ মুসলিম অ্যাওয়ার্ডের বর্ষসেরা রাজনীতিবিদের খেতাব পান সাদিক৷

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ধর্মানুরাগী এবং নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়েন৷

ধর্মান্তরিত মুসলিম রাজনীতিবিদ
ডাচ রাজনীতিবিদ জোরাম ফন ক্লাভেরিন একসময় কট্টর মুসলিম সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন৷ পার্টি ফর ফ্রিডমের এই আইনপ্রণেতা ইসলাম ধর্মবিরোধী প্রচারও চালিয়েছেন৷

কিন্তু ইসলাম বিরোধী একটি বই লিখতে গিয়ে তিনি হঠাৎই নিজেকে ধর্মান্তরিত হিসেবে ঘোষণা দেন৷

তাঁর দলের সাবেক প্রধান ইসলামের কট্টর সমালোচক গেয়ার্ট ভিল্ডার্স এ নিয়ে বলেছেন, ব্যাপারটি একজন নিরামিষভোজীর কসাইখানায় চাকরি নেয়ার মতো৷

ফ্রান্স ও ইউরোপের রাজনীতিতে মুসলিম
পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস৷ ধর্মানুসারীদের সংখ্যার দিক থেকে দেশটিতে ইসলামের অবস্থান দ্বিতীয়৷

তবে সেই তুলনায় রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম৷ রাশিদা দাতি তাঁদের মধ্যে একজন, যিনি দেশটির রাজনীতির সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন৷

২০০৭-২০০৯ সালে এই নারী ফ্রান্সের আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন৷ বর্তমানে তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন সদস্য।

নাবা/সেন্ট্রাল ডেস্ক/কেএইচ/