আমি গর্বিত, আমি গর্বিত আমি বাংলাদেশী -আনন্দ ভ্রমনের শেষ পর্ব

ইনানী সমুদ্র সৈকত। ছবি: শাহরিয়া পলাশ

চাঁদপুর : সুজলা সুফলায় ঘেরা বান্দরবানের সৌন্দর্য উপভোগ করে রওনা করলাম সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে কক্সবাজার।
শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে সেই হিলসা নামক বাসযোগে রওনা করলাম। দুপাশে বান্দরবানের পাহাড়ের কোল ঘেষে বাসটি যতই এগিয়ে যাচ্ছিলো ফেলে আসা সৌন্দর্যের জন্য একটু খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক ছিলো কিন্তু সাথে সাথে সমুদ্র সৈকতের নিকট যতই এগুচ্ছিলাম মানে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ভালো লাগাটা আবার কাজ করতে লাগলো সাথে সাথে একটু ক্লান্ততাও কাজ করতে লাগলো।
অবশেষে দুপুর পৌনে ১টার দিকে পৌছে গেলাম কক্সবাজারের অস্টার ইকো নামক আবাসিক হোটেলে। হোটেলে কিছুটা ফ্রেশ আপ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়েই ক্লান্ত শরীরেই চলে গেলাম সুগন্ধা সমুদ্র সৈকতে। সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে এবং আমাদের মত অনেকেই সেই সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে আসায় সৈকতটিতে লোকে লোকারণ্য ছিলো। ক্লান্ত শরীর নিয়ে যখন সমুদ্র তীরে গেলাম আর সমুদ্রের এলোমেলো ঢেউ ও গোধূলী বেলাকে উপভোগ করতে করতে কখন যে শরীরের ক্লান্ততা কেটে গিয়েছিলো বুঝতেই পারলাম না।
পরদিন আবার সেই সমুদ্র সৈকতের আরো সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে চলে গেলাম ইনানী সমুদ্রতটে। সেখানে ছিলো সমুদ্রের পাশে গড়ে উঠা ঝিনুকের দোকানের সাথে সাথে বিভিন্ন রকমের বার্মিজের তৈরী পন্যের দোকান, ছিলো রাইডার, চড়ার জন্য ঘোড়া, ছিলো সমুদ্রে চড়ার জন্য সী বাইক, সাথে সাথে সমুদ্র দর্শনার্থীদের জন্য সরকারি তরফ থেকে বিভিন্ন সুব্যবস্থা যেমন নিরাপত্তা বাহিনী থেকে শুরু করে অনাকাঙ্খিত কোনো বিরুপ ঘটনা যেনো না ঘটে সেইসব ধরনের। কিন্তু সব কিছু থাকলেও সমুদ্র সৈকতের সামনে গেলে আর কি সেইসব কিছুর কথা মনে থাকে, মনে থাকে না বয়সের কথা, মনে থাকে না কোনো বাধ্যবাধকতা।

হিমছড়ির ঝরনা। ছবি: শাহরিয়া পলাশ

সৃষ্টিকর্তার অপরুপ সৃষ্টি যখন সমুদ্রের এলো মেলো ঢেউ আছড়ে পড়ছে একের পর এক, পাড়ে থাকা কাকড়ার বাচ্চা গুলো তাড়াতাড়ি করে ঢুকে যাচ্ছে তাদের গড়া গর্তে, ঢেউয়ের তালে তালে চলে আসছিলো কিছু কিছু জ্যান্ত শামুখ ইচ্ছে না থাকা সর্তেই হাতে নিয়ে দেখলাম সমুদ্রের পানিতে পা দিতেই কেমন যানি অপরুপ ভালোলাগা লাগছিলো সেটা হয়তো লিখে বুঝানো সম্ভব নয় এক কথায় বলা যায় বাহ্।
সেখান থেকে চলে আসলাম হিমছড়ি ঝরনার কোলে। সেখানে হিমছড়ির পাহাড়ে উঠতে খুব একটা ভালো না লাগারই কথা কিন্তু উঠে আবার নামতেই যখন সেই ঝরনার কাছে আসলাম সেই পাহাড়ে উঠা নামার ভালো না লাগাটা রুপান্তরিত হলো ভালো লাগার চরম সীমানায় কারন পাহাড়ের কোল ঘেষে বেয়ে চলছে ঝরনার জলধারা আর সেই জলধারা নিকটে কয়েকটি ছবি ক্যামেরা বন্দি না করে পারলাম না। না চাওয়া স্বর্তেও সেইসব ছেড়ে চলে আসতে হলো।
দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে হোটেলে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়েই চললাম সেই গোধূলী বেলাকে পূর্নাঙ্গরুপে উপভোগ করতে সুগন্ধা ও লাবনী সমুদ্র সৈকতে। শীতের তীব্রতা থাকা স্বর্তেও নেমে পরলো আমাদের সাথে কয়েকজন সমুদ্রে গোসল করতে, কেউ কেউ চড়ে উঠলো ঘোড়াতে কেউ কেউ সী বাইকে আর আমি? আর আমি সবার আনন্দ উপভোগের সাথে শুধু এতটুকু চিন্তা করলাম ও শুকরিয়া জানালাম অপরুপ সৌন্দর্যে সৃষ্টির মালিক মহান সৃষ্টিকর্তাকে সত্যিই আমাদের দুনিয়াকে খুব সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন আর তার সেই সুন্দর সৃষ্টির অপরুপ সৌন্দর্যে ভরা আমাদের এই বাংলাদেশ।
আর তখন মনে মনে বলে উঠলাম আমি গর্বিত, আমি গর্বিত আমি বাংলাদেশী।

শাপ/