অল্প বৃষ্টিতেই কলেজ মাঠে হাঁটু পানি!

অল্প বৃষ্টি হলেই পঞ্চগড়ের ব্যারিষ্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইন্সটিটিউটের মাঠে জমে যাচ্ছে হাঁটু পানি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক শিক্ষার্থীরা রয়েছেন সংকটে। মাঠে পানি জমে যাবার ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেনা । অন্যদিকে, খেলাধুলাও বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঠটি নিচু হওয়ার কারণে অল্প বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। কোনও কোনও সময় এক হাঁটু পানি হয়। তখন স্কুল ড্রেস ভিজে যায়। মাঠটি হয়ে পড়ে পিচ্ছিল। চলাফেরা করা যায়না। এভাবে ক্লাসে আসলেও শ্রেণী কক্ষের ভেতরে অনেকটা বন্দি হয়েই থাকতে হয়।

কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, মাঠ থেকে পানি নিস্কাশনের জন্য এখনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে পুরো বর্ষাকাল এরকম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী হাসান রাব্বি জানান, কলেজে এলেও সে ক্লাসে যেতে পারেনি। কারণ মাঠে পানি। এভাবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় ক্লাসও হয়না। ফলে তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। স্কুল শাখার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইতি আক্তার জানায় পানি জমার কারণে পুরো মাঠে কাদা হয়ে যায়। আমরা স্কুলে যেতে পারি না। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায় ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল শাখায় ৫’শ এবং কলেজ শাখায় একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে ১ হাজার ১’শ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। প্রতিষ্ঠানটি এশিয়ান হাইওয়ের প্রায় তিনফিট নিচে অবস্থিত হওয়ার কারণে রাস্তার পানিও ক্যাম্পাসে গড়িয়ে পড়ে। জমে যাওয়া এই পানি নিস্কাসনের কোনও ব্যবস্থা নেই।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম জানান, পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে আমাদেরকে বর্ষাকালে নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেনা। পড়ালেখার ভীষণ ক্ষতি হয়। অধ্যক্ষ দীনেশ চন্দ্র রায় জানান, এটাই আমাদের দুঃখ। এত সুন্দর ক্যাম্পাসে পানি জমে থাকার কারণে ভীষন পিছিয়ে পড়ছি আমরা। একটি ড্রেন করলেই সমাধান হয়। কিন্তু ড্রেন করার মতো টাকা আমাদের প্রতিষ্ঠানে নেই। অনুদানের জন্য বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছি । কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান এই প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখার সভাপতি। কিছুদিন আগে তিনি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন । ড্রেন নির্মাণের আশ্বাসও দিয়েছেন।

নাবা/ডেস্ক/রাজু/এনএম