অপরাধমূলক গ্যাং কালচার!

কেউ পড়াশোনা করে, কেউ করে না। বেপরোয়া স্বভাব, চলাফেরাও উগ্র। এলাকায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে তারা দল বেঁধে চলে।

এদের কারও বয়সই আঠারোর বেশি নয়। ইভটিজিং থেকে শুরু করে এই কিশোররা জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কাজে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় এসেছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবনকে রঙিন করতে, না বুঝে অনেকেই পা বাড়ায় এই ধ্বংসের পথে। শৈশবের উচ্ছলতা কাটিয়ে কৈশোরে পা। যখন নানারকম স্বপ্ন ডানা মেলে মনের আকাশে। কিন্তু কেউ কেউ সেই আকাশকে রঙিন করার নামে ঢেকে দেয় ধূসরকালো মেঘে।

পুলিশের ক্রাইম এনালাইসিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকাতেই গত কয়েক বছরে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সন্ধান মিলেছে অন্তত ৫০টি। এখন নতুন করে বিভিন্ন জেলা শহরের কিশোররাও জড়িয়ে পড়ছে এলাকাভিত্তিক নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব গ্যাং সমাজেরই কারো না কারো দ্বারা মদদপুষ্ট। তাদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পুণর্বাসনের কথাও বলছেন তারা।

লাতিন আমেরিকা কিংবা আফ্রিকার এসব দৃশ্যের মঞ্চায়ন হয় দেশের নানা প্রান্তেই। কৌতূহল থেকে জানার শুরু এরপর হিরোইজমের নামে হাতে চাপাতি রামদা কখনও আগ্নেয়াস্ত্রও তুলে নেয় এই কিশোররা।

জোট বেঁধে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের ওপর। পাড়া মহল্লায় বখাটে তকমাও জুটে যায়। দ্রুতই তাদের ধরাষায়ী করে মাদকের বিষাক্ত ছোবল। কখনো রাজনীতির গুটিতে ফিকে হয়ে যায় কৈশরের অপার সম্ভাবনা।

বিদেশী সিনেমার প্রভাবও আছে। দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে জানান দেয় গ্যাংয়ের নাম। জড়িয়ে পড়ে নানারকম ফৌজাদারি অপরাধে। সম্প্রতি বেশকিছু হত্যাকাণ্ড গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসার পর কিশোর গ্যাং নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাবা/ডেস্ক/কেএইচ/