অনশনে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

এবার অনশনে বসেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া বিক্ষুব্ধ অংশের সদস্যরা। মারধরের অভিযোগ তুলে  তাঁরা এ অনশন করছেন।

অনশনকারীরা বলছেন, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া তারা এ অনশন ভাঙবেন না।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাত তিনটা থেকে বৃষ্টিতে ভিজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করছেন তাঁরা।

তাঁদের বোঝাতে এসে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী একপর্যায়ে বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন।

রাত তিনটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে পদবঞ্চিতদের বুঝিয়ে অনশন থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তবে পদবঞ্চিতরা তাঁদের গ্রহণ করেননি। তাঁরা মারধরের বিচার দাবি করে তাঁদের চলে যেতে বলেন।

এ সময় গোলাম রাব্বানী তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি সরি। তোমরা চলে যাও। আমি কাল নেত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসব।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘আমি আজ কিছু বলব না। যা বলার কাল বলব।’

গোলাম রাব্বানী বলেন, কাউকে মারধর করা হয়নি। কথা বলতে গিয়ে ‘হট টক’ হয়েছিল। বিশেষ সিন্ডিকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী পদবঞ্চিতরা এসব করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পদবঞ্চিত অংশের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর জটিলতা নিরসনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে টিএসসিতে আলোচনায় বসেছিলেন তাঁরা।

সেখানে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নতুন কমিটির সংস্কৃতিবিষয়ক উপসম্পাদক লিপি আক্তারকে আপত্তিকর কথা বললে তিনি প্রতিবাদ জানান।

এর জের ধরে সেখানে উপস্থিত গোলাম রাব্বানীর কর্মীরা লিপিসহ পদবঞ্চিত কয়েকজনকে মারধর করেন।

পদবঞ্চিতদের দাবি অনুযায়ী, মারধরের শিকার হয়েছেন নতুন কমিটির সংস্কৃতিবিষয়ক উপসম্পাদক নিপু ইসলাম তন্বী, তিলোত্তমা শিকদার, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, শামসুন নাহার হল শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা, সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপসম্পাদক এমদাদ হোসেন সোহাগ, সাবেক কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক আজমীর শেখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন।
নাবা/সেন্ট্রাল ডেস্ক/কেএইচ/