বন্দিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন ৬ কারা কর্মকর্তা

বন্দিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন ৬ কারা কর্মকর্তা

কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপারসহ ৬ উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বন্দীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন, জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ আখন্দ, জেলার রিতেশ চাকমা, দুই ডেপুটি জেলার মনির হোসেন ও অর্পন চৌধুরী, ফার্মাসিস্ট ফখরুল আজিম চৌধুরী এবং কারাগারের চিকিৎসক মহিউদ্দিন চৌধুরী। 

অভিযোগ উঠেছে, কারা হাসপাতালে রোগীদের বদলে মাদক মামলার আসামি এবং আত্মসমর্পণ করা ১০২জন ইয়াবা কারবারিকে আলাদা সেলে রাখা হচ্ছে। আর এর মাধ্যমে বিশেষ সুযোগ দেয়া এসব বন্দিদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন ওই ছয় কর্মকর্তা। 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কারাগারের নিয়মের বাইরে কয়েকজন বন্দিদের সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে বেশ মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন ওই ছয় কর্মকর্তা। এ নিয়ে বিষয়ে কয়েকটি অভিযোগ জমা হলে এনফোর্সমেন্টের অভিযানে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান দুদক কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার কারা হাসপাতালে ২৫টি সিট রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালটিতে রাখা হয়েছে একশ জন বন্দিকে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি। এনফোর্সমেন্টের অভিযানে দুদক কর্মকর্তারা জানতে পারেন, হাসপাতালে থাকার জন্য প্রত্যেক বন্দির কাছ থেকে মাসে ২৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন ওই ছয় কর্মকর্তা।

এছাড়া চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করা টেকনাফের ১০২ জন ইয়াবা কারবারির অনেককে আলাদা সেলে রাখা হয়েছে। যাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেন কারা কর্মকর্তারা। অথচ অন্যান্য সাধারণ বন্দিদের রাখা হয়েছে তুলনামূলক নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদক প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা কারাগারে অভিযানে গিয়ে অনেক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। হাসপাতালে অবস্থান করা বন্দিরাই বলেছেন, মাসে তাদের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এসব আর্থিক লেনদেন হয় থানার বাইরে বন্দিদের আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে।’

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বন্দিরা তথ্য দিলেও তারা পরিচয় দিতে ভয় পাচ্ছেন। এতে বন্দিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ প্রমাণ কষ্টসাধ্য। তাই এনফোর্সমেন্টের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা কারাগারের ৬ কর্মকর্তার অবৈধভাবে অর্থ অর্জনের বিষয়টি তদন্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।

এ তদন্তের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলমকে টিম লিডার করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলমের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবং কমিটিতে আমাকে সদস্য করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ আখন্দের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নাবা/ডেস্ক/কেএ 

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন