প্রধানমন্ত্রী সংসদে প্রায়ই ‘অসত্য কথা’ বলেন : ফখরুল

প্রধানমন্ত্রী সংসদে প্রায়ই ‘অসত্য কথা’ বলেন : ফখরুল
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ‘বৈধ রাষ্ট্রপতি’ বলা যায় না এবং এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘সুবিধা’ নিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রী রোববার সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ফখরুল বলেন, ‘সংসদে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) প্রায়ই অসত্য কথা বলেন। যে কথার কোনো ভিত্তি নেই। ইতিহাসও তার সাক্ষ্য দেয় না।’

সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত করেন ফখরুল।

জাতীয় পার্টিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জোট গড়ার উদাহরণ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বরাবরই তিনি (শেখ হাসিনা) এরশাদের দলকে সঙ্গে নিয়ে জোট করেছেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনকে হত্যা করে বিরোধী দলে বসিয়েছেন। যে কারণে আমরা বলি, এরশাদ হচ্ছেন সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগের, শেখ হাসিনার গৃহপালিত বিরোধী দল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সত্য হচ্ছে এটাই যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একজন নির্বাচিত বিচারপতিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে বলেছিলেন- ‘শি ইজ নট আনহ্যাপি’- অর্থ্যাৎ এরশাদ ক্ষমতায় আসায় তিনি অখুশি নন। পরে তার (শেখ হাসিনা) কাজ দেখে আমরা বুঝতে পারি তিনি এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই এদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন, মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনপ্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ছিলেন জিয়াউর রহমান। আজকের গণতন্ত্রের অন্যতম সেনানী যিনি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, সেই খালেদা জিয়াকে ‘অবৈধ দখলদার’ সরকার বেআইনিভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। তিনি (খালেদা জিয়া) অত্যন্ত অসুস্থ। আজকের এই দিনে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আল্লাহর কাছে এই দোয়া করছি, আল্লাহ তাকে যেন অবিলম্বে মুক্ত করেন। আমাদের মাঝে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ ও গণতন্ত্রকে আবার মুক্ত করতে পারেন।

তিনি বলেন, আজকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার শপথ নিয়েছে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। আমরা আশা করি সম্মিলিত আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো।

জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি নূর জাহান ইয়াসমিন, সহ-সভাপতি জেবা খান, ‍যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মেহেরুন্নেসা হক, সাধারণ সম্পাদক আমেনা খাতুন, যুগ্ম-সম্পাদক রাবেয়া আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রাজিয়া আলিম, সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার ভূইয়া, যুগ্ম-সম্পাদক রোকেয়া চৌধুরী বেবী প্রমুখ।

নাবা/ডেস্ক/কেএইচ/

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন