পিয়ন সাধনা যেভাবে জামালপুরের ‘ছায়া ডিসি’ হয়ে ওঠেন...

পিয়ন সাধনা যেভাবে জামালপুরের ‘ছায়া ডিসি’ হয়ে ওঠেন...

গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে আলোচনায় রয়েছে জামালাপুরের জেলা প্রশাসকের একটি নারী কেলেঙ্কারির ভিডিও ইস্যু। ভিডিওতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে আপত্তিকর কার্যকলাপে দেখা গেছে তারই কার্যালয়ের অফিস সহায়ককে (পিয়ন)। নাম তার সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।

ঘটনা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়ার পর গতকাল রোববার ডিসি আহমেদ কবীরকে ওএসডি করে সেখানে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অফিস সহায়ক সাধনার খোঁজ নেই। তার মা সাংবাদিকদের জানিয়েছে, মেয়ে আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে গেছে।

এদিকে জামালপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পিয়ন সাধনাকে ‘ছায়া ডিসি’ আখ্যা দিয়ে বলছেন নানা ঐদ্ধত্য আর খবরদারির ঘটনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিসি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী গণমাধ্যমকে জানায়, পিয়ন পদে চাকরি করলেও ডিসি অফিসে সাধনার খবরদারিই চলতো বলা যায়। সরাসরি অফিসের প্রধান কর্তার সঙ্গে দহরম-মহরম থাকায় তার প্রভাবের মুখে সবাই থাকতো তটস্থ। শুধু কর্মচারীরাই নয়, উর্ধতন কর্মকর্তাদেরও মূল্যায়ন করতেন না পিয়ন সাধনা। তবে কর্মস্থলে সমস্যা হওয়ার শঙ্কায় কেউ প্রতিবাদ করতেন না।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ২০১৮ সালে উন্নয়ন মেলায় হস্তশিল্পের স্টল বরাদ্দ নিতে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের সঙ্গে দেখা করে সাধনা। তখন বিনামূল্যে স্টল বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসক। সেই থেকেই সম্পর্কের শুরু। উন্নয়ন মেলা চলাকালীনই তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে যা শারীরিক সর্ম্পক পর্যন্ত গড়ায়।

চলতি বছর জানুয়ারিতে ডিসি অফিসে ২৭ জনকে অফিস সহায়কসহ ৫৫ পদে নিয়োগ করা হয়। তখন সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা নিজে এবং তার দুই আত্মীয় রজব আলী ও সাবান আলীকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেন ডিসি।

সাধনা যোগদানের পরপরই জেলা প্রশাসকের অফিস রুমের পাশে খাস কামরাটিতে মিনি বেড রুমে রূপান্তর করতে খাট ও অন্যান্য আসবাবপত্রসহ সাজ্জসজ্জা করেন। সেই রুমেই চলতো তাদের রঙ্গলীলা।

অফিস চলাকালীনও শুরু হতো তাদের অপকর্ম। নির্বিঘ্নে অসামাজিক কাজ করতে ডিসির কক্ষের দরজায় বসানো হয় লাল ও সবুজ বাতি। তারা কক্ষে ঢুকে পড়লৈ লালবাতি জ্বলে উঠতো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো বিশ্বস্ত পিয়ন। তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার জন্য প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা ছিলো। এ সময় অফিস কক্ষের বাইরে ফাইলপত্র নিয়ে অপেক্ষায় থাকতো কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেকেই। তাদের গোপন কাজ শেষে পরিপাটি হয়ে যখন চেয়ারে বসতেন তখন জ্বলে উঠতো সবুজ বাতি। সবুজ বাতি জ্বলে ওঠার পরেই শুরু হতো দাপ্তরিক কার্যক্রম।

সূত্র জানায়, ডিসির প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দফতরে বদলি, নিয়োগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য করে সাধনা হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা।

জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অনেকেই কাজ হাসিলের জন্য সাধনাকে ম্যানেজ করতেন। এ কারণে সবার মাঝেই ‘ছায়া ডিসি’ আখ্যা পায় পিয়ন সাধনা।

এছাড়া সাধনার কাছে একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও জানায় সূত্রগুলো।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন