বকেয়া না দিলে চামড়া বিক্রি বন্ধ!

বকেয়া না দিলে চামড়া বিক্রি বন্ধ!

বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানীর পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ীরা।

তারা জানায়, ট্যানারি মালিকরা বছরের পর বছর বকেয়া রেখে তারা ব্যবসা করছে। আমরা টাকার অভাবে চামড়া, লবন ক্রয়, শ্রমিক বিল দিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছি।

আগামীকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত চামড়া বিক্রি থেকে বিরত থাকবেন বলে ঘোষণা দেন পোস্তার ব্যবসায়ীরা।

গত কয়েক দিনে সারাদেশ থেকে খবর এসেছে, ঈদুল আযহা শেষে পশুর চামড়ার দাম না পেয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ক্ষোভে মাটি চাপা দিয়েছে শত শত চামড়া। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় রাস্তায়, নদীতে চামড়া ফেলে দেওয়ার দৃশ্যের দেখা মিলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে।

চামড়ার সঙ্কটে বেকার হয়ে পড়েছে রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকার চামড়ায় লবন দেওয়া শ্রমিকরা। কোরবানির পরে এই সময়ে শ্রমিকদের চামড়ায় লবন এবং সংরক্ষণে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও ভিন্ন চিত্র  দেখা যায় পোস্তা বাজারের চামড়ার আড়তগুলোতে।


পোস্তা এলাকার অপর এক আড়তের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ট্যানারি মালিকদের কারণে চামড়ার দাম নেই। তারা ব্যাংক লোন পেয়েও পাইকারদের কোনো ধরণের টাকা দেয় না। এমনকি আড়তদারদের পূর্বের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে নানা তালবাহানা করে। আমাদের এই আড়তের মালিকও প্রায় ২ কোটি টাকা পায়। তিনি জানান, ট্যানারি মালিকরা বিদেশে প্রতি বর্গফুট চামড়া বিক্রি করেন ৪-৫ ডলার। আর আমাদের ৩৫-৪০ টাকার বেশি তারা দিতে চান না। ফলে মৌসুমী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আড়ৎদারসহ সবাই বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড এন্ড স্কীন মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন নাগরিক বার্তাকে বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা টাকা কি করেছে বা টাকা পেলো কিনা এটা তো কারো দেখার বিষয় না। এই শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ লোক জড়িত। একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের মাংস ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আমাদের মতো ব্যবসায়ীরা এবং ট্যানারি মালিকরা পর্যন্ত সবাই জড়িত। টাকার সঙ্কটের কারণে এই মার্কেটটা শেষ হয়ে গেলো। শেষ সময়ে এসে যদি তারা আমাদের বলে, আমরা টাকা ছাড় করাতে পারিনি। এই সময়ে এসে কি এই কথা শোভা পায়।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন