ইতিহাসের সর্বনিম্ন দামে চামড়া বিক্রি!

ইতিহাসের সর্বনিম্ন দামে চামড়া বিক্রি!

চামড়ার ক্রেতাশূন্য ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। ফলে এখানে গরুর চামড়া সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খাশির চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই বলছেন, ইতিহাসের সর্বনিম্ন দামে এবার চামড়া বিক্রি হচ্ছে।

গফরগাঁও উপজেলার মাইজবাড়ি হাতেম তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ওই গ্রামের বাসিন্দা ওয়াহিদুর রহমান বাদল বলেন, ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকায়। গাভির চামড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও ছাগলের চামড়া ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

তিনি বলেন, আমার ৬৫ বছরের জীবনে চামড়ার দাম এতো কম দেখিনি। দাম এত নিচে আর কখনও হয়নি। গতবারও গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করা গেছে। অথচ লাখ টাকার গরুর চামড়াও এবার এই দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না।

একই উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হাসান সৌরভ বলেন, ৫০ হাজার টাকার গরুর চামড়া ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এবার চামড়ার দাম খুবই সস্তা। বলা চলে পানির দর। কেউ কিনতেই চায় না।

মাইজবাড়ি বাজারে চামড়া বিক্রি করতে এসেছিলেন একই গ্রামের মতিন বেপারী।  তিনি বলেন, ৫০ টাকায় গাভির চামড়া বিক্রি করেছি। নিজের গোয়ালের গাভি, যার দাম হবে বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা। আর ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার গাভির চামড়া ৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন একই গ্রামের শেখ আকবর। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর চেয়ে চামড়া মাটিতে পুঁতে রাখলেও ভালো হতো।

এদিকে ৫৫ হাজার টাকার ষাড়ের চামড়া ৩৮০ টাকায় বিক্রি করেছেন রানা। তিনি জানান, এতো কম দামে চামড়া বিক্রি হতে দেখেননি কখনও। একই এলাকায় লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া ৪০০ টাকায়ও বিক্রি করা যায়নি বলে জানান এক বাসিন্দা। পরে তা মসজিদে দান করা হয় বলে জানান তিনি।

১০ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সোরহাব ঢালী। তিনি বলেন, খাশির চামড়া ১০ থেকে ৫০ টাকায় কিনেছি। আর গরুর চামড়া কিনেছি ৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। মৌসুমী এই চামড়ার ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে এবারই চামড়ার দাম সবচেয়ে কম। আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করা হলেও এখন আর তা করা হয়না। গড়ে ১০০ পিস চামড়া ৫০ হাজার টাকায় কিনেছেন বলেও জানান ওই ক্রেতা।

গফরগাঁওয়ের চামড়ার আরেক মৌসুমী ব্যবসায়ী জামাল ঢালী বলেন, ভালো মানের সবচেয়ে বড় গরুর চামড়া ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা পিসে কিনেছি। আমি গাভির কোনো চামড়া কিনিনি। ছাগলের চামড়া কিনেছি ২০ থেকে ৩০ টাকায়।

প্রায় ত্রিশ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত জামাল ঢালী বলেন, চামড়ার দাম আগে কখনো এত কম ছিল না। আমার জীবনেও এত কম দামে কখনো চামড়া কিনিনি।

দাম কেন এতো কম এমন প্রশ্নে জামাল বলেন, গত বছর কোনো চামড়াই বিক্রি করতে পারিনি। পরে নিজে তা প্রক্রিয়াজাত করেছি। আর এখন কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরাও তেমন চামড়া কেনে না। এসব কারণেই চামড়ার দাম কম।

গরুর প্রতি পিস চামড়ার দাম সর্বনিন্ম ৫০ টাকার বিষয়টি জেনে বিষ্ময় প্রকাশ করেন কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাজী দেলোয়ার হোসেন। 

দাম এতো কম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে এখনো টাকা পাইনি। গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারিনি। তাই চামড়ার দাম কিছুটা কম। তবে দাম এতোটা কম থাকার কথা নয় বলেও জানান এই চামড়া ব্যবসায়ী।

নাবা/ডেস্ক/কেএইচ/

রিলেটেড নিউজঃ

0 মন্তব্য

মতামত দিন