পুঁজি হারানোর শঙ্কায় চামড়া কেনায় অনাগ্রহী ব্যবসায়ীরা

পুঁজি হারানোর শঙ্কায় চামড়া কেনায় অনাগ্রহী ব্যবসায়ীরা

কোরবানির ঈদের পরপরই দৃষ্টি পড়ে পশুর চামড়ার দিকে। প্রতি বছর চামড়া সংগ্রহে নামে নিজস্থানীয় কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী। সারা বছর অন্য পেশায় যুক্ত থাকলেও কোরবানির সময় হয়ে যান চামড়া ব্যবসায়ী।

কয়েক বছর আগেও দেখা যেতো একই এলাকায় একাধিক ব্যবসায়ী হওয়ায় চামড়া সংগ্রহ নিয়ে শুরু হতো প্রতিযোগিতা। তবে এ বছর চিত্রটা ভিন্ন। দুই-তিন এলাকা মিলে একজনে চামড়া সংগ্রহ করছেন। গত বছরের লোকসানের অভিজ্ঞতায় সতর্কতার সঙ্গে চামড়া কিনছেন। অনেক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী এ ব্যবসা থেকে সরে এসেছেন। আর যারা নেমেছেন তারাও আছেন পুঁজি হারানোর আতঙ্কে।

জানা গেছে, শুধুমাত্র রাজধানীতে এ বছর সাত লাখেরও বেশি গবাদি পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। চামড়া ব্যবসা থেকে সরে আসার পেছনে অনেক ব্যবসায়ী দায়ী করছেন চামড়া শিল্পের ট্যানারি মালিকদের। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অনভিজ্ঞতা আর অদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ট্যানারি মালিকরা চামড়ার মূল্য কমিয়ে দেন। সরকারের নির্ধারিত মূল্য দিয়ে স্থানীয়দের থেকে চামড়া কিনলেও ট্যানারিতে নিয়ে গেলে সেই দামের অর্ধেকও পাওয়া যায় না। এমনকি লাভ তো দূরে থাক, পূঁজিই ফেরত আসে না।

মোহাম্মদপুরের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিন শুভ গত বছর লোকশান গুনেছেন। তবু এবারও ঝুঁকি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এই ব্যবসায় এক সময় প্রতিযোগিতা থাকলেও এখন এর কিছুই নেই। আগে প্রতিটি গলিতে দু-একজন ব্যবসায়ী থাকলেও এবার দুই-তিন এলাকাতেও চামড়া কেনার মতো কেউ নেই। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে ট্যানারি মালিকদের কাছে গেলে তারা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেন। পরে দেখা যায় চালান থাকে না। সরকার যে দাম ঠিক করে দেয়, তারা সে দামও দেয় না। তাই মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লস খায়। এই বার লসের ভয়ে অনেকেই ব্যবসায় নামে নাই।’


শুভ আরো বলেন, এবার সর্বনিম্ন সাড়ে ৩শ' থেকে এবং সর্বোচ্চ ৭শ' টাকা করে একেকটি গরুর চামড়া কিনেছি। আমাদেরও তো একটা খরচ আছে। আর আমরা পুঁজি খাটাই কিছু লাভের আশায়। কিন্তু দিন শেষে সেইটা আর হয় না।

বিগত বছরের লোকসানের কথা মনে করে এবারো লোকসানের ভয়ে রয়েছেন এই ব্যবসায়ীরা। আবার প্রতি বছরের মতো এবারো বেশি দামে চামড়া কিনেছেন এমন ব্যবসায়ীর সংখ্যাও কম নয়। হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় চামড়া জড়ো করে রেখেছেন একদল ব্যবসায়ী। এবার বিক্রির বেলায় পাইকারদের দেখা পাচ্ছেন না তারা। রাজধানীর পাড়া-মহল্লা থেকে সংগ্রহ করা চামড়া কিনতে প্রতি বছর মহল্লাতেই দেখা মেলে পাইকারদের। তাদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা থাকতো। অনেকে আগে-ভাগে দাদন দিয়ে রাখতো মৌসুমী ব্যবসায়ীদের। তারা না আসলেও চামড়া নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি পাঠাতেন। কিন্তু এ বছর তাদের কোনো ধরনের সহযোগীতা পাচ্ছেন না বলে জানান মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

রিলেটেড নিউজঃ

0 মন্তব্য

মতামত দিন