হাসপাতালের বিছানাতেই ঈদ

হাসপাতালের বিছানাতেই ঈদ

আজ ঈদুল আযহার দিনে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন রাজধানীর মিরপুর-১ এর গার্মেন্ট কর্মী আরিফ। ঈদের ৪ দিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ইচ্ছে ছিলো গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবেন। কিন্ত সেটি আর হয়ে ওঠেনি। জানালেন ঈদ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু ডেঙ্গুর কারণে কিছুই হয়নি। এখন অপেক্ষা কবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবো। ডাক্তার জানিয়েছে- দু'এক দিনের মধ্যেই ছেড়ে দেবে।

পাশের সিটে শুয়ে থাকা আরেক তরুণ ধানমণ্ডি ২৭ এ একটি সুপারশপের কর্মী আসিফ। ডেঙ্গুর কারণে জীবন শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন। তবে এ যাত্রায় বেঁচে গেছেন। জানালেন, ঈদের দিনে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা হতাশার। ঈদে অনেক কিছুই করার ছিলো। বন্ধুদের নিয়ে ঢাকার বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথা, কিন্ত তার আগেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাকে। বাবাকে নিয়ে ঈদের দিনে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাড়ি ফেরার প্রহর গুনছেন।


আরিফ ও আসিফের মতো বিভিন্ন বয়সের ডেঙ্গু আক্রান্ত কয়েকশ’ রোগী এই হাসপাতালের ডেঙ্গু সেলের বিছানায় আজ ঈদের দিনে মশারির ভেতরে শুয়ে আছেন। অপেক্ষা করছেন কবে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে যাবেন সুস্থ হয়ে।

আজ মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। ধনী-গরিব সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মাঝে ঈদের খুশি বিরাজ করছে। সবাই পশু কোরবানি দিতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন। কিন্তু এই ঈদের আনন্দ যেন নিরানন্দ হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা রোগী ও সঙ্গে থাকা স্বজনদের কাছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপের কারণে প্রতিটি হাসপাতালেই রয়েছে রোগীর বাড়তি চাপ। আর এই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক-নার্স সহ হাসপাতালের কর্মচারীরা। সরকার স্বাস্থ্য দফতরের সবার ঈদের ছুটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। তাই কাজের মধ্যেই ঈদের আমেজ খুঁজে নিচ্ছেন তারা। আর যাদের নিয়ে হাসপাতালগুলোর এতো ব্যস্ততা সেই রোগীদের কাছে ঈদের আনন্দ দূরে থাক, বেঁচে থাকার আনন্দটাই অনেক। ঈদ পরিবারের সঙ্গে কাটাতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষা করছেন তারা।


ডেঙ্গু ওয়ার্ডের রোগি এবং কর্মরত চিকিৎসক-নার্সদের বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু  নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৮২৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে ১ হাজার ৪৪৫ জন। বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৮৩ জন। গতকাল সেই সংখ্যা ছিল ৩৩৭ জন। আর হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি আছে ১৬০ জন।

তিনি জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ছুটি বাতিল করা না হলেও চিকিৎসক এবং নার্সরা রোগীদের সেবায় নিজেদের 

নিয়োজিত করতেন।

ঈদের পর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, ‘বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম এবং বেশির মাঝামাঝি অবস্থানে আছে। অনেকেই পরিবারের টানে ঈদুল আযহা পালনে বাড়ি গেছে। দেশে বৃষ্টিও আছে কম-বেশি। আমরা মনে করি, ঈদের পরে রোগীর সংখ্যা বাড়াতে পারে। আমরা এসব রোগীদের সেবা প্রদানে প্রস্তুত আছি।’


নাবা/ডেস্ক/তারেক

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

রিলেটেড নিউজঃ

0 মন্তব্য

মতামত দিন