বিপিএম চেয়ারম্যানের প্রশ্ন- ৩৭০ ধারা বাতিলের একক অধিকার ভারতের কি আছে?

বিপিএম চেয়ারম্যানের প্রশ্ন- ৩৭০ ধারা বাতিলের একক অধিকার ভারতের কি আছে?

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যে ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ গণশক্তি আন্দোলনের (বিপিএম) চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এম. তাহের।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে বৃটিশ-ভারত ভেঙে পাকিস্তান ও ভারত নামক দু’টি দেশ হলেও মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর কোনো অংশেই যোগ দেয়নি। ভারত ভাগের একটি শর্ত ছিলো, বৃটিশ-ভারতের যে অঞ্চলগুলো দেশীয় রাজা দ্বারা শাসিত সেই অঞ্চলসমূহ নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। অর্থাৎ তাদের সামনে তিনটি পথ খোলা রাখা হয়, ভারত কিংবা পাকিস্তানে যোগ দেওয়া অথবা স্বাধীন থেকে নিজেদের শাসন কাজ চালিয়ে যাওয়া। কাশ্মীরের তৎকালীন রাজা হরি সিং প্রাথমিক ভাবে তিন নম্বর পথটি বেছে নেন অর্থাৎ স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন। 

এই স্বাধীন থাকার পেছনে মূল কারণটি ছিল রাজার দোদুল্যমানতা। রাজা নিজে হিন্দু ছিলেন বলে ভারতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ থাকলেও ৭০ ভাগ মুসলমান অখুশি হবে ভেবে সেটা করেননি। আবার পাকিস্তানে যুক্ত হলে রাজ্যের হিন্দু এবং শিখরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সে চিন্তাও তার মাথায় ছিলো। কিন্তু কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী শুরু থেকেই পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার পক্ষে ছিলো। আবার পাকিস্তানও রাজাকে অনেকভাবে বুঝিয়ে সমঝোতায় আসতে চেয়েছেন। কিন্তু রাজা তাতে রাজি না হয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন। 

এমনই এক অবস্থায় ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর পাকিস্তানের পশতুন উপজাতিরা কাশ্মীরে আক্রমন করে। এ ঘটনায় রাজা হরি সিংয়ের সাথে পশতুনদের যুদ্ধ শুরু হলে রাজা ভারতের তৎকালীন গভর্নর-জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটনের সহায়তা চান। বিনিময়ে হরি সিং ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর ভারতের সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন যাতে কাশ্মীরের কিছু শর্ত সাপেক্ষে ভারতে যোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিলো। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় সৈন্যরা কাশ্মীরে প্রবেশ করে। অপরদিকে কাশ্মীরের পাকিস্তান প্রান্ত দিয়ে পাকিস্তানি সৈন্য প্রবেশ করে। এরপর হরি সিংয়ের সাথে মাউন্টব্যাটনের চুক্তির আলোক ১৯৪৯ সালের ১৭ অক্টোবর ভারতের সংবিধানে ৩৭০ ধারা যুক্ত হয় যাতে কাশ্মীরের স্বায়ত্ব শাসনের বিষয়টি স্পষ্ট ছিল।

নির্মোহভাবে এ ইতিহাসের বিশ্লেষণ করলে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। বিষয়গুলো হচ্ছে-

(১) দেশ ভাগের সময় কাশ্মীরের জনসংখ্যা ৭০ ভাগ মুসলিম হওয়ার ফলে তাদের পাকিস্তানেই যোগ দেওয়ার কথা ছিলো এবং তারা তাই চেয়েছিলো। দ্বি-জাতি তত্ত্ব অনুযায়ী তাদের পাকিস্তান অংশেই যাওয়ার কথা।

(২) কাশ্মীর দেশীয় রাজা শাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বাধীন থাকার সুযোগ ছিলো এবং রাজা প্রাথমিকভাবে তাই চেয়েছিলেন। যদিও বিষয়টিতে তিনি দোদুল্যমান ছিলেন।

(৩) রাজা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মতামতকে অগ্রাহ্য করার ফলে পাকিস্তান অবিবেচকের মতো কাশ্মীরে আক্রমন করে, যা রাজাকে ভারতের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য করে।

(৪) ভারত কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন নিশ্চিত করেই কাশ্মীরকে ভারতে যোগদানের শর্তে রাজি হয় এবং তার আলোকেই সংবিধানে ৩৭০ ধারা যুক্ত হয়।

এই ৪টি সিদ্ধান্তের কোন একটি কারণে কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল করার অধিকার ভারতের কি আছে? যে চুক্তি অনুযায়ী সংবিধানে ৩৭০ ধারা যুক্ত হয় সেটি ছিলো দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি। ভারত এক তরফাভাবে তা বাতিলের অধিকার রাখে কি? কাশ্মীরের সংখ্যাগুরু জনগণ মুসলমান বলেই নয়, কাশ্মীরের স্বাধীনতা তাদের নাগরিকদের মানবিক অধিকার। ভারত বহুদিন ধরেই কাশ্মীরের জনগণের ওপর যে আগ্রাসনবাদী নীতি অবলম্বন করে আসছে, ৩৭০ ধারা বাতিল সেই আগ্রাসনবাদীতার চূড়ান্ত প্রকাশ বলে মনে হচ্ছে।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

0 মন্তব্য

মতামত দিন