নজরুলের স্বপ্ন নদীতে ফেলে দিলো পুলিশ

নজরুলের স্বপ্ন নদীতে ফেলে দিলো পুলিশ

ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে চাঁদপুরে আসছে মানুষ। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ছুটে আসছে সবাই। আর মানুষের এই ভিড়কে কাজে লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেচেঁ থাকার লড়াই করেন কিছু হকার। কারণ তাদেরও রয়েছে পরিবার। বাবা মা। ছেলে মেয়ে। কিন্তু কিছু কিছু সময়ে সেই দায়টা আরো বড় হয়ে ধরা দেয় যখন অমানবিকতার ধাক্কায় স্বপ্নগুলো মাটি হয়ে যায়।

তেমনি এক হতভাগা বাবা চাঁদপুরের লঞ্চটার্মিনালের আমড়া বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সংসার চলে আমড়া বিক্রি করেই। প্রতিদিনের মতো আজও জীবিকার সন্ধানে লঞ্চ টার্মিনালে আমড়া বিক্রি করতে বের হয়েছিলেন নজরুল। কিন্তু অবৈধ ভাবে লঞ্চ টার্মিনালে আমড়া বিক্রির দায়ে চাঁদপুরের নৌ-পুলিশের এক সদস্য নজরুলের আমড়াসহ থালা ফেলে দিলেন নদীতে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরুলের আমড়া ফেলে দেওয়ার সেই মুহূর্তের ছবিটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। অনেকেই শেয়ার করে পুলিশের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

এদিকে, চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ না করলেও নৌ-পুলিশে যত চিন্তা টার্মিনালে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে আসা সাধারণ হকারদের নিয়ে। এখন প্রশ্ন দাড়ায় তবে কি তাদের ক্ষমতা শুধু নজরুলের মতো হকারদের স্বপ্নগুলো নদীতে ফেলার জন্য?

অনেক খোঁজাখুজির পরে পাওয়া গেলো নজরুলকে। তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন চাদঁপুর শহরের যমুনা রোডে। তার ২মেয়ে ও ১ ছেলে। আজকের ঘটনার বিষয়ে নজরুল ইসলাম নাগরিক বার্তাকে বলেন, ‘পরশু ঈদ পোলাপাইনরে কিছু কিন্না দিমু তাই তাড়াহুড়ো করে বাইর হইছি। কিন্তু কেনো কথা কওনের আগেই হেরা আমার আমড়াগুলো থালসহ গাঙে ফালাইয়া দিছে। তহন মনে হইছিলো আমার কলিজাডা গাঙে পইরা যাইতাছে। চাইছিলাম থালের লগে আমিও গাঙে ঝাঁপ দেই।’

অসহায় নজরুলের আত্নচিত্নকার কেউ না শুনলেও এক বুক কষ্ট নিয়ে ফিরেছেন ঘরে। সব হারিয়ে নজরুলের চিন্তা ঈদের দিন কি ভাবে ছেলে মেয়ের সামনে দাড়াবেন।

নাবা/ডেস্ক/রাজু

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

রিলেটেড নিউজঃ

0 মন্তব্য

মতামত দিন