ভ্যাট আইন নিয়ে উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা

ভ্যাট আইন নিয়ে উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা
বহুল আলোচিত নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় ও উদ্বেগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আইনটি বাস্তবায়নের প্রত্যক্ষ প্রভাব এখনও দৃশ্যমান হয়নি।
আইনটির প্রভাব পড়তে আরো কিছু দিন সময় লাগবে। তবে এরই মধ্যে আইনটি নিয়ে উদ্বেগ আর সংশয়ের কথা বলছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ।  
নতুন এই আইনে এক পণ্যের ওপর দ্বৈত (একের অধিক) ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। এতে করে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাবে বলে জানান তারা। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এখনও ভ্যাট আইন নিয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি। আরও কয়েকদিন গেলে বোঝা যাবে নতুন আইন কতটুকু ব্যবসা বান্ধব।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই থেকে একাধিক হার রেখে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করে সরকার। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করতে চেয়েছিল সরকার। তবে একক (১৫ শতাংশ) হারে ভ্যাট আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তির মুখে দুই বছরের জন্য আইনটি স্থগিত করে সরকার। কিন্তু চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট দেওয়ার আগেই নতুন আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ ভ্যাট আইনের প্রভাব সম্পর্কে বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ীরা অনেক ধরনের সমস্যায় পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আমাদের যৌথ কমিটি রয়েছে। আমাদের সব অ্যাসোসিয়েশনকে সমস্যা সম্পর্কে লিখিত প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবগুলো একত্রিত করে আমরা ওই কমিটির কাছে জমা দেব।’
এখন পর্যন্ত কী ধরনের সমস্যায় পড়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবেতো শুরু হলো। ঠিক কী কী ধরণের সমস্যায় পড়েছি তা এখনই বলা যাবে না। আরও কয়েকদিন পর তা জানা যাবে।’
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও কোনো সমস্যায় পড়িনি। তবে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের বাড়তি একটু খরচ হবে। ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো এখনই সমস্যায় পড়ছে। এখনও সফটওয়্যার ছাড়াই টাকা নিচ্ছে। এছাড়া এই মাস থেকেই অনলাইনে টাকা দিতে হবে। সবাই এখনও সফটওয়্যারে মোডিফাই হতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘যে পাঁচ/ছয়টি কোম্পানিকে সফটওয়্যার বসানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমাদেরকে ওদের কাছ থেকেই কিনতে হবে। ফলে ওরা অনেক সময় বাড়তি টাকা আদায় করবে। এতে অনেকের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।’
নতুন আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন ডিসিসিআই পরিচালক রাশেদুল করিম মুন্না। 
তিনি বলেন, ‘এখনও আইন নিয়ে সচেতনতা তৈরি হয়নি। কিছু কিছু পণ্যের ওপর একের অধিকবার ভ্যাট অরোপ হচ্ছে। এতে কিছু পণ্যের দামও বেড়ে গেছে।’
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভ্যাট আইন নিয়ে কোনো সমস্যা ফেইস করতে হচ্ছে না। এনবিআর থেকেও ওরা আসছে না। নতুন আইনে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকার কথা। এতে কারা ভ্যাটের আওতায় পড়বে, কারা পড়বে না, তা আমরা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না।’
তবে এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মনে করেন-এখনও ভ্যাট আইন নিয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি। তিনি বলেন, ‘আগে কার্যকর হোক, তারপর দেখি কী হয়।’
জানা গেছে, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলেও এখনও এই আইনে ভ্যাট নেওয়া শুরু হয়নি। সাধারণত কোনো মাসের ভ্যাট আদায় করা হয় পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে। অর্থাৎ জুলাইয়ে ভ্যাট আদায় করা হবে আগস্টের ১৫ তারিখ বা এর পরবর্তী সময়ে। নতুন ভ্যাট আইনে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন বা ই-ভিআইএন নম্বর নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনেক আগেই বহু কোম্পানিকে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন করিয়েছিল। ২০১৭ সালে চালু হওয়ার পর গেল বছরের শেষদিকে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই অস্বচ্ছ ও ভুল ছিল। ফলে আবারও সব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে হচ্ছে।
এদিকে ভ্যাট ফাঁকি রোধে এনবিআর বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বসাতে চাচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যমান ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রারের (ইসিআর) পরিবর্তে সামনের দিনগুলোতে ব্যবসায়ীদের নতুন এই যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। ফলে এনবিআরের কর্মকর্তা অফিসে বসেই ভ্যাটের সব হিসাব রাখতে পারবেন। এতে থাকবে না হয়রানি বা ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার কোনো অবৈধ পন্থা।
জানা গেছে, ইএফডি পরিচালিত হবে বিশেষ একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ওই সফটওয়্যারের জন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এনবিআরের তালিকাভুক্ত হয়েছে। 
খুব শিগগিরিই ২০ হাজার ইএফডি মেশিন দেশে আসতে পারে। ভবিষ্যতে ২ লাখ ইএফডি মেশিন আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আধুনিক এই যন্ত্র আনার কথা রয়েছে। সূত্র: সারাবাংলা
নাবা/ডেস্ক/কেএইচ/

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

রিলেটেড নিউজঃ

0 মন্তব্য

মতামত দিন